ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

বরণের সকল আয়োজন সম্মপন্ন, মায়ের কাছে ফেরা দিয়ে শুরু, রাজনীতির মাঠে প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

বরণের সকল আয়োজন সম্মপন্ন, মায়ের কাছে ফেরা দিয়ে শুরু, রাজনীতির মাঠে প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করের কথা রয়েছে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বিমানবন্দরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন তথা মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পরদিন তিনি পিতা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করবেন। তিনি এমন একটি দিন তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা কিনা বড় দিনসহ টানা ৩ দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি। এরপর তিনি ঢাকার  ৩৬ জুলাই মহাসড়কের (৩০০ ফুট) গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌছাবেন। সেখানে একমাত্র বক্তব্য হিসাবে তারেক রহমান  দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মা খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করবেন।  স্বদেশ ফিরে আসার পর তারেক রহমানের দীর্ঘ কর্মসূচি। শুক্রবার বাদ জুমা শেরে-এ- বাংলা নগরে পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি জিয়ারত করবেন।  শনিবার ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে এনআইডি কার্যক্রম শেষ করে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন। তারেক রহমানের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মানিকমিয়া অ্যাভিনিউতে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি দলের তরফে। বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, তারেক রহমান এমন কোনো কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না, যা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তিনি এরইমধ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হতে নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে আমরা তার নির্দেশনা পালনের শত চেষ্টা করে হয়ত শতভাগ পারিনি।

এদিকে বুধবার  পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে অভ্যর্থনা মঞ্চ পরিদর্শনে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের কষ্ট লাঘব করতেই তারেক রহমান দেশে আসছেন। তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কত লোক হবে সেটা ধারণা করা যাচ্ছে না। ধারণার বাইরে লোক হবে। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করছি, সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে, ওনারা যতটুকু পারবেন করবেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায়  তথ্য জানানো হয়, ঢাকা শহরে প্রবেশের জন্য বিমানবন্দর এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য টোলমুক্ত থাকবে। ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। তাকে স্বাগত জানাতে একদিন আগেই ৩০০ ফিটের সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে পুরো সমাবেশস্থল যেন ‘উৎসবের আমেজে’ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় যাতায়তের জন্য নৌপথ, সড়ক ও রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। দক্ষিণাঞ্চেল থেকে নৌপথে ঢাকায় আসার জন্য বিশেষ লঞ্চ রয়েছে। তারেক রহমানের স্বদেশ ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ।

মায়ের কাছে ফেরা দিয়ে শুরু
বৃহস্পতিবার স্বেদেশ ফিরছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রার আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার চলাচলের প্রতিটি ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে। তবে দলীয় নির্দেশনায় কোথাও জনসমাগম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। বিএনপি নেতারা বলছেন, জনদুর্ভোগ এড়ানোই তারেক রহমানের প্রধান নির্দেশনা। দেশে ফিরেই তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার কারণে এটি তার জন্য আবেগঘন মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং কিছু সময় একান্তে কাটানোই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যবর্তন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা এলাকায় কর্মীদের ভিড়
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যবর্তন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা এলাকায় কর্মীদের ভিড়

এরপর তিনি যাবেন তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারতে। শুক্রবার বাদ জুমা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন। শনিবার শহীদ জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতেরও কর্মসূচি রয়েছে। ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি তারেক রহমানের এ সফর রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি তার সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি স্পষ্ট বার্তা। এদিনই তিনি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতাল গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে আহতদের প্রতি দলের সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

থাকার ব্যবস্থার বিষয়ে জানা গেছে, আপাতত তিনি পরিবারের নির্ধারিত নিরাপদ বাসভবনেই অবস্থান করবেন। সেখানে সীমিত পরিসরে দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। গণসংবর্ধনার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত একটি আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে, যেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চাইবেন। দলীয় সূত্র বলছে, দেশে ফিরে তারেক রহমান বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতৃত্বের শৃঙ্খলা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি আরও গণমুখী ও দায়িত্বশীল করতে তিনি একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের আস্থা অর্জনে নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশল প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ। দলীয় নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে বিএনপিকে নতুন গতি দেবে। তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, এটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরুর বার্তা, যা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বরণের সকল আয়োজন সম্মপন্ন, মায়ের কাছে ফেরা দিয়ে শুরু, রাজনীতির মাঠে প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করের কথা রয়েছে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বিমানবন্দরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন তথা মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পরদিন তিনি পিতা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করবেন। তিনি এমন একটি দিন তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা কিনা বড় দিনসহ টানা ৩ দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি। এরপর তিনি ঢাকার  ৩৬ জুলাই মহাসড়কের (৩০০ ফুট) গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌছাবেন। সেখানে একমাত্র বক্তব্য হিসাবে তারেক রহমান  দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মা খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করবেন।  স্বদেশ ফিরে আসার পর তারেক রহমানের দীর্ঘ কর্মসূচি। শুক্রবার বাদ জুমা শেরে-এ- বাংলা নগরে পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি জিয়ারত করবেন।  শনিবার ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে এনআইডি কার্যক্রম শেষ করে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন। তারেক রহমানের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মানিকমিয়া অ্যাভিনিউতে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি দলের তরফে। বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, তারেক রহমান এমন কোনো কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না, যা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তিনি এরইমধ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হতে নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে আমরা তার নির্দেশনা পালনের শত চেষ্টা করে হয়ত শতভাগ পারিনি।

এদিকে বুধবার  পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে অভ্যর্থনা মঞ্চ পরিদর্শনে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের কষ্ট লাঘব করতেই তারেক রহমান দেশে আসছেন। তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কত লোক হবে সেটা ধারণা করা যাচ্ছে না। ধারণার বাইরে লোক হবে। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করছি, সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে, ওনারা যতটুকু পারবেন করবেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায়  তথ্য জানানো হয়, ঢাকা শহরে প্রবেশের জন্য বিমানবন্দর এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য টোলমুক্ত থাকবে। ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। তাকে স্বাগত জানাতে একদিন আগেই ৩০০ ফিটের সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে পুরো সমাবেশস্থল যেন ‘উৎসবের আমেজে’ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় যাতায়তের জন্য নৌপথ, সড়ক ও রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। দক্ষিণাঞ্চেল থেকে নৌপথে ঢাকায় আসার জন্য বিশেষ লঞ্চ রয়েছে। তারেক রহমানের স্বদেশ ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ।

মায়ের কাছে ফেরা দিয়ে শুরু
বৃহস্পতিবার স্বেদেশ ফিরছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রার আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার চলাচলের প্রতিটি ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে। তবে দলীয় নির্দেশনায় কোথাও জনসমাগম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। বিএনপি নেতারা বলছেন, জনদুর্ভোগ এড়ানোই তারেক রহমানের প্রধান নির্দেশনা। দেশে ফিরেই তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার কারণে এটি তার জন্য আবেগঘন মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং কিছু সময় একান্তে কাটানোই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যবর্তন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা এলাকায় কর্মীদের ভিড়
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যবর্তন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা এলাকায় কর্মীদের ভিড়

এরপর তিনি যাবেন তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারতে। শুক্রবার বাদ জুমা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন। শনিবার শহীদ জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতেরও কর্মসূচি রয়েছে। ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি তারেক রহমানের এ সফর রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি তার সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি স্পষ্ট বার্তা। এদিনই তিনি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতাল গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে আহতদের প্রতি দলের সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

থাকার ব্যবস্থার বিষয়ে জানা গেছে, আপাতত তিনি পরিবারের নির্ধারিত নিরাপদ বাসভবনেই অবস্থান করবেন। সেখানে সীমিত পরিসরে দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। গণসংবর্ধনার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত একটি আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে, যেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চাইবেন। দলীয় সূত্র বলছে, দেশে ফিরে তারেক রহমান বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতৃত্বের শৃঙ্খলা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি আরও গণমুখী ও দায়িত্বশীল করতে তিনি একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের আস্থা অর্জনে নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশল প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ। দলীয় নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে বিএনপিকে নতুন গতি দেবে। তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, এটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরুর বার্তা, যা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।