ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর
- আপডেট সময় : ০৭:০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেছেন, বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাকে টেকসই ভিত্তিতে দাঁড় করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোয় এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং ‘এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আর্থিক খাত দ্রুত অবমূল্যায়িত মুদ্রা, কমে যাওয়া রিজার্ভ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট এবং বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার মতো সংকটে জর্জরিত ছিল। “বিনিময় হার স্থিতিশীল না হলে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব”—উল্লেখ করে গভর্নর জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২০ টাকা; বর্তমানে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় তা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
গভর্নর জানান, বৈদেশিক খাত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি হিসাব উদ্বৃত্তে থাকায় এবং আর্থিক হিসাবেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এক বছর আগে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়া রিজার্ভ বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুদহার কমানোর কোনো সুযোগ আপাতত নেই জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ১২.৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশের একটু ওপরে নেমে এলেও বাস্তব সুদহার ইতিবাচক রাখতে হবে। মুদ্রানীতি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক থাকবে; সুদহারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা আনার পর প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. মনসুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানত বীমা আইন, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারও অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আর্থিক খাতকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে সময় লাগবে। তবে শুরু করা কাঠামোগত সংস্কারগুলো অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে এর সুফল স্পষ্ট হবে।”




















