ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের হারে ইতিহাসের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লিখানোর উদ্যোগ রমজানের আগে বাজারে মূল্যচাপ, নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী  নির্বাচন বানচালে দেশজুড়ে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে: মির্জা ফখরুল যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, তারপরও ভারতে ম্যাচ! আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগে-পরে এক মাস সেনা মোতায়েনের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগে-পরে এক মাস সেনা মোতায়েনের দাবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়য়তনে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হল ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা, যেখানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত এক মাস সেনা ও বিশেষায়িত বাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানায়। সংগঠন দু’টির মতে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হয়েছে, যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। বক্তব্য রাখেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য সংখ্যালঘুদের ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

আলোচনায় বক্তারা জানান, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে “গনিমতের মাল” হিসেবে দেখে  যার প্রতিফলন ঘটে হামলা, দখল, লুটপাট এবং বৈষম্যমূলক ব্যবহারে। বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ঘৃণামূলক বক্তব্য শাস্তিযোগ্য করা এবং সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আইনগতভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় উপস্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বাহাত্তরের সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা রোধে সেনা মোতায়েন, সরকারি–স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য দূরীকরণ, দখল–লুটপাট ও হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিদ্বেষমূলক ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার।

বক্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—যদি রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগে-পরে এক মাস সেনা মোতায়েনের দাবি

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়য়তনে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হল ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা, যেখানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত এক মাস সেনা ও বিশেষায়িত বাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানায়। সংগঠন দু’টির মতে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হয়েছে, যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। বক্তব্য রাখেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য সংখ্যালঘুদের ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

আলোচনায় বক্তারা জানান, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে “গনিমতের মাল” হিসেবে দেখে  যার প্রতিফলন ঘটে হামলা, দখল, লুটপাট এবং বৈষম্যমূলক ব্যবহারে। বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ঘৃণামূলক বক্তব্য শাস্তিযোগ্য করা এবং সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আইনগতভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় উপস্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বাহাত্তরের সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা রোধে সেনা মোতায়েন, সরকারি–স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য দূরীকরণ, দখল–লুটপাট ও হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিদ্বেষমূলক ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার।

বক্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—যদি রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।