ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা জানিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন মার্কিন হামলার পরও খারগ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি অব্যাহত: ইরান ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা ৫০ হাজার কোটি টাকার পোলট্রি খাত ঝুঁকিতে, খামারিদের রক্ষায় ৬ দফা দাবি পেঁয়াজ-আলুর দামপতনে কৃষকের কান্না, `কৃষিপণ্য কমিশন গঠনের দাবি’ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভোটের কালি শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু: প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি

রাজধানীতে ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার, ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনায় নৃশংস হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার, ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনায় নৃশংস হত্যা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধারের নেপথ্যে ছিল ১০ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেইলের পরিকল্পনা। এমন তথ্য জানিয়েছে ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (্যাব) ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার শামীমা আক্তার কোহিনুরের (৩৩) স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ্যাব এই তথ্য জানায়।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড় বিজরা এলাকা থেকে শামীমাকে গ্রেফতার করে ্যাব। তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইলিং লাশ গুমের পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে কারওয়ান বাজারে ্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ্যাব এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও গ্রেফতার করেছে। বিষয়ে ডিবির পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

্যাব জানায়, গত ১১ নভেম্বর রাতে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। তিনি বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের জন্য ঢাকায় আসেন। পরদিন সকাল থেকেই তার মোবাইল বন্ধ থাকায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকার পানির পাম্পসংলগ্ন স্থানে দুটি নীল ড্রাম থেকে ২৬ টুকরো করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হয়।

গ্রেফতার শামীমার জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি জরেজ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। জরেজ তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার এক বন্ধুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে লাখ নেবে জরেজুল, আর লাখ পাবে শামীমা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার এক মাস আগে থেকেই শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। নিয়মিত অডিওভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন।

১১ নভেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর শামীমা জরেজ আশরাফুলকে নিয়ে শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে আশরাফুলকে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে জরেজ বাইরে থেকে শামীমা আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন।

্যাব অধিনায়ক জানান, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কসটেপ লাগায়। এরপর ইয়াবার প্রভাবে উত্তেজিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।

পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি দুটি ড্রাম এনে লাশ ২৬ টুকরো করে ভরে। পরে সিএনজি ভাড়া করে ড্রাম দুটি বাসা থেকে বের করে হাইকোর্টের মাজার গেটসংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়।

জরেজ শামীমাকে কুমিল্লায় চলে যেতে বলে এবং এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

শামীমার তথ্য অনুযায়ী, শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকার বাসা থেকে রক্তমাখা পাঞ্জাবিপায়জামা, হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি, কসটেপ, গেঞ্জি হাফপ্যান্ট উদ্ধার করেছে ্যাব।

্যাব জানায়, পুরো পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা প্রধান আসামি জরেজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পরিষ্কার হবে।

গ্রেফতার শামীমা আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজধানীতে ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার, ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনায় নৃশংস হত্যা

আপডেট সময় : ০২:১৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধারের নেপথ্যে ছিল ১০ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেইলের পরিকল্পনা। এমন তথ্য জানিয়েছে ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (্যাব) ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার শামীমা আক্তার কোহিনুরের (৩৩) স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ্যাব এই তথ্য জানায়।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড় বিজরা এলাকা থেকে শামীমাকে গ্রেফতার করে ্যাব। তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইলিং লাশ গুমের পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে কারওয়ান বাজারে ্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ্যাব এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও গ্রেফতার করেছে। বিষয়ে ডিবির পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

্যাব জানায়, গত ১১ নভেম্বর রাতে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। তিনি বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের জন্য ঢাকায় আসেন। পরদিন সকাল থেকেই তার মোবাইল বন্ধ থাকায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকার পানির পাম্পসংলগ্ন স্থানে দুটি নীল ড্রাম থেকে ২৬ টুকরো করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হয়।

গ্রেফতার শামীমার জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি জরেজ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। জরেজ তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার এক বন্ধুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে লাখ নেবে জরেজুল, আর লাখ পাবে শামীমা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার এক মাস আগে থেকেই শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। নিয়মিত অডিওভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন।

১১ নভেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর শামীমা জরেজ আশরাফুলকে নিয়ে শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে আশরাফুলকে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে জরেজ বাইরে থেকে শামীমা আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন।

্যাব অধিনায়ক জানান, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কসটেপ লাগায়। এরপর ইয়াবার প্রভাবে উত্তেজিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।

পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি দুটি ড্রাম এনে লাশ ২৬ টুকরো করে ভরে। পরে সিএনজি ভাড়া করে ড্রাম দুটি বাসা থেকে বের করে হাইকোর্টের মাজার গেটসংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়।

জরেজ শামীমাকে কুমিল্লায় চলে যেতে বলে এবং এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

শামীমার তথ্য অনুযায়ী, শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকার বাসা থেকে রক্তমাখা পাঞ্জাবিপায়জামা, হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি, কসটেপ, গেঞ্জি হাফপ্যান্ট উদ্ধার করেছে ্যাব।

্যাব জানায়, পুরো পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা প্রধান আসামি জরেজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পরিষ্কার হবে।

গ্রেফতার শামীমা আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে।