ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু ভিক্ষার ঝুলিতে ৪৬ হাজার ৬০০ ডলার সহানুভূতির আড়ালে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল বাকি শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে পাঁচ বছরে ৩৪ প্রাণহানি  অবসরে  ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক  এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে  ভাটিয়ারীর একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন, সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। নিহত অপর শ্রমিকের পরিচয়  জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ওই কারখানা থেকে ছয়জন শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ হিসেবে আনা একটি জাহাজের ভেতরে কাজ করার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসেন। কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন জানান, তাঁর কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজের ভেতরে থাকা ছয় থেকে আটজন শ্রমিক অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন।

তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন বলে জানান। কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে পারবেন বলে জানান।

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৮  শ্রমিকের মৃত্যু

এদিকে দুর্ঘটনার পর কারখানার আশপাশের এলাকাতেও তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, কারখানার ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁরা সাগর থেকে নৌকা নিয়ে ফেরার সময় কারখানার পাশের খাল দিয়ে যেতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভিড়াতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার ও হৈচৈ শোনা যায়। পরে কয়েকজন অসুস্থ শ্রমিককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। জাহাজের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিক মারা গেছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো জাহাজ কাটার আগে ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস শনাক্ত ও অপসারণ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস পরীক্ষা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এ শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, স্ক্র্যাপ জাহাজে শ্রমিকদের প্রবেশের আগে বিষাক্ত গ্যাস শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং শ্রমিকেরা যথাযথ সুরক্ষা নিয়ে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে  ভাটিয়ারীর একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন, সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। নিহত অপর শ্রমিকের পরিচয়  জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ওই কারখানা থেকে ছয়জন শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ হিসেবে আনা একটি জাহাজের ভেতরে কাজ করার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসেন। কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন জানান, তাঁর কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজের ভেতরে থাকা ছয় থেকে আটজন শ্রমিক অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন।

তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন বলে জানান। কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে পারবেন বলে জানান।

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৮  শ্রমিকের মৃত্যু

এদিকে দুর্ঘটনার পর কারখানার আশপাশের এলাকাতেও তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, কারখানার ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁরা সাগর থেকে নৌকা নিয়ে ফেরার সময় কারখানার পাশের খাল দিয়ে যেতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভিড়াতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার ও হৈচৈ শোনা যায়। পরে কয়েকজন অসুস্থ শ্রমিককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। জাহাজের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিক মারা গেছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো জাহাজ কাটার আগে ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস শনাক্ত ও অপসারণ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস পরীক্ষা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এ শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, স্ক্র্যাপ জাহাজে শ্রমিকদের প্রবেশের আগে বিষাক্ত গ্যাস শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং শ্রমিকেরা যথাযথ সুরক্ষা নিয়ে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।