কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজী, চোখে-মুখে তার সমৃদ্ধ কৃষি অর্থনীতির স্বপ্ন
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫ ৪৯৫ বার পড়া হয়েছে
কৃষকদের ন্যায্য প্রাপ্যটুকু নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠকে দাবি জানিয়েছেন কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজী
আমিনুল হক, ঢাকা
চোখে-মুখে তার সমৃদ্ধ কৃষি অর্থনীতির স্বপ্ন। ‘কৃষক বাচলে দেশ বাচবে’। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির বাংলাদেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কৃষির সঙ্গে জড়িত। অর্থনীতিতে কৃষির অবদান অনেক বেশি। দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রা এবং জাতীয় আয় মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। একারণে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং আধুনিকায়ন করতে হবে। কথাগুলো বলেন, কৃষক ঐক্য পরিষদের কো-অর্ডিনেটর কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজী।
শাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণন থেকে একটি উল্লেখযোগ্য আয় আসে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে খাদ্য নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ কৃষির উৎপাদন দেশের খাদ্য সরবরাহের প্রধান উৎস। গ্রামীণ অর্থনীতি সাধারণত কৃষিনির্ভর হয়ে থাকে। যেখানে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবনযাত্রা পরিচালিত হয়।

কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজীর বলেন, চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে, পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব। কৃষকদের মধ্যে আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, ফসল তোলার সময় এবং প্রক্রিয়াকরণে আধুনিক পদ্ধতির অভাব, সঠিকভাবে পেঁয়াজ শুকানোর অভাব, এসব সমস্যা সমাধানে, আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ফসল তোলার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
কৃষি-নির্ভর অর্থনীতিতে সরকারের কৃষি নীতি ও পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়ছে, যা একটি পরিবর্তনশীল চিত্র।
কৃষক ঐক্য পরিষদ-বাংলাদেশ, সংগঠনটি প্রকৃত কৃষকদের অধিকার আদায়ের পক্ষে কাজ করে থাকে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন জানান, সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে দেওয়া এক চিঠিতে উপ-জেলা পর্যায়ে কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রণোদনা বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব এবং তদবির কান্ডে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কৃষকদের অধিকার এবং কৃষি উৎপাদন উভয়কেই বাধাগ্রস্ত করে।

প্রণোদনা বিতরণে কৃষক ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে কৃষি সহায়তা কার্যক্রম মুক্ত করা, প্রকৃত কৃষক তালিকার ভিত্তিতে কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক) বিতরণ নিশ্চিত করা এবং প্রণোদনার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার জন্য কৃষক সংগঠনগুলির মাধ্যমে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠর করা।
কৃষক কারো দয়া চায় না, সে চায় তার ন্যায্য হিস্যাটুকু। সরকারের তরফে যেখানে প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে বীজসহ কৃষি উপকরণ দিয়ে থাকে, সেখানে প্রকৃত কৃষকরাই তা পাবে। এক্ষেত্রে নানা প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত কৃষক নয়, সুবিধা লুটবে অন্যরা তা হতে পারে না। এ জন্যই লড়াই করে চলেছেন কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজী।
সরকারি কৃষি সহায়তা প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন দেশীয় কৃষিকে সমৃদ্ধ করবে। কৃষকদের ন্যায্য প্রাপ্যটুকু নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠকে দাবি জানিয়েছেন কৃষকবন্ধু শাহাবুদ্দিন ফরাজী।



















