এক ঘোষণাতেই অভিনন্দনে ভাসছেন ড. ইউনূস
- আপডেট সময় : ০৭:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫ ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক, ঢাকা
বিশ্ব রাজনীতি বেশ জটিল একটি বিষয়। রাজনীতি বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, এবং বিভিন্ন স্বার্থের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন ও পরিচালনা করে থাকে। এই সম্পর্কগুলো সবসময় সহজ বা সরল নাও হতে পাওে, বরং প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বিষয় জড়িত থাকে। থাকে কঠোর সমালোচনাও।
চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন, এমপি, মন্ত্রীসহ আত্মগোপনে চলে যান হাজার হাজার নেতাকর্মী। সৃষ্টি হয় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। আন্দোলনে পথ বেয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ ইত্যাদি জটিল রাজনীতিরই সমীকরণ বলেন সমাজচিন্তকরা।

মূলত চব্বিশের ৮ই অক্টোবর ড. ইউনূস শপথ নেবার পর থেকেই ধীরে ধীরে জাতীয় নির্বাচনের দাবি ওঠতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংস্কার পদ্ধতি জাতির সামনে আনেন। আইন ও বিচার, স্বাস্থ্য, নির্বাচনসহ গঠন করেন একাধিক সংস্কার কমিশন। এসব কমিটি তাদেও প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেন।
বিভিন্ন কমিশনের আলোকে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক কওে চূড়ান্ত করা হয় জুলাই ঘোষণাপত্র। যা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বছরপূর্তী পাঠ ৫ আগষ্ট। এদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

৫ই আগষ্ট রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। ভাষণে তিনি বলেন, ৬ আগষ্টই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন। তিনি এও বলেন, ২৬-এর রমাজানের আগে ফেব্রুয়ারি মাসেই যাতে কওে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত জুন মাসের প্রথমার্ধে লন্ডনে সফর করেন ড. ইউনূস। তার লন্ডন সফরের শেষ দিন ১৩ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনূস। সেই বৈঠকেই ২৬’র রমজানের আগেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার বিষয়ে প্রথম আলোচনা হয়। ড. ইউনূস-তারেক রহমান লন্ডন বৈঠক শেষে যৌথ বিৃবতিতে এমন তথ্য জানানো হয়। তবে, এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন বলেও যৌথ বিৃবতিতে উল্লেখ করা হয়।

৫ই আগষ্ট রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
আর এই ঘোষণার পর পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে অভিন্দন জানানো হয় ড. ইউনূসকে। জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলের তরফে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যে দোদুল্যমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো, ড. ইউনূসের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেটি কেটে গেছে।
৫ আগষ্ট রাতে ঢাকার গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের তরফে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। একটি জুলাই ঘোষণাপত্র, অপরটি জাতির উদ্দেশে ভাষণের নির্বাচনের ঘোষণা। আমরা দুটোকেই স্বাগত জানাচ্ছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা মনে করি, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগে কোনো রকমের অনিশ্চিত পরিবেশ আর থাকবে না। সবকিছু সচল হবে এবং গতিশীলতা পাবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা যে রকম বলেছিলেন, সে রকমই তো করলেন। চিঠিও হয়তো কাল নির্বাচন কমিশনে দিয়ে দেবেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যেটা বলেছেন সেটা থেকে সরে যাবেন, বিষয়টা এমন হতে পারে না। সব বিবেচনায় রোজার ঈদের আগে নির্বাচন করা ভালো পদক্ষেপ।
পবিত্র রমজানের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এবি পার্টি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দৃশ্যমান বিচার ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটি বিচার, সংস্কার, জনজীবনের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দিকে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য জাতীয় নির্বাচন অত্যাবশ্যক, এর সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের দুই নেতা বলেন, এই নির্বাচন যাতে একটা টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে তৈরি করতে পারে, তার জন্য আমরা আগামী নির্বাচনকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হিসেবে করার দাবি জানাচ্ছি।
এই নির্বাচনে গঠিত সংসদ একই সঙ্গে একটা যৌক্তিক সময়ের ভেতরে সংস্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ করবে।
জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে যাতে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে তার জন্য অবিলম্বে নির্বাচনে সবার সম–সুযোগ সৃষ্টি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।




















