বানের জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ফেনীতে দুর্ভোগে লাখো মানুষ
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ২০২ বার পড়া হয়েছে
অব্যাহত বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবারেও ভাসলো ফেনী। জেলার সব কয়টি নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফেনীবাসী গেল বছরও স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্রবল স্রোতের চাপ সামলাতে না পেরে এরই মধ্যে ফেনীর মহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ১৬টি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও সোনাগাজী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫০টি গ্রাম এখন জলমগ্ন। তলিয়ে গেছে বসতঘর, ধানক্ষেত, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট । অনেক পরিবার উঁচু রাস্তা ও স্কুলঘরে আশ্রয় নিয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ফেনী-পরশুরাম ও উপজেলা সদরের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কগুলো।
বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমি, মাছের ঘের, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে দুই উপজেলায় ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবারের জন্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ফেনীর জল উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচটি স্থানে ভাঙনের তথ্য পেয়েছি। মাঠপর্যায়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে। ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে বৃষ্টি থেমে আসায় ফেনী শহরের জল নামতে শুরু করেছে। শহরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান জল জমে রয়েছে।

লোকালয়ে নদীর জল ঢুকতে থাকায় জেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা গত বছরের মতো ফের বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ভৌগোলিক কারণেরই বাংলাদেশের পূর্ব-উত্তরাঞ্চলের ফেণী, কুমিল্লাহ, ব্রহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং আশাপাশের ভাটি অঞ্চল বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। এসব অঞ্চলের উজানে ভারতের ত্রিাপুরা-আসাম রাজ্যের অবস্থান।
ত্রিপুরা থেকে গোমতি, ফেণী, মনু ও মুহুরি নদী কুমিল্লাহ ও ফেণী-নোয়াখালীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আসাম থেকে কুশিয়ারা ও বরাক নদী সিলেট, সুনামগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। উজানের রাজ্য মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরার অধিকাংশ এলাকাই পাহাড়ি। সেখানে বছরজুড়েই বৃষ্টিপাত হয়। তবে, জুলাই-আগস্ট তথা আষাঢ়-শ্রবণ দুই মাস ভারী বর্ষণ হয়। উজানের সেই পাহাড়ি ঢল নীচের বাঙলাদেশের ফেণী-কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, জেলায় টানা দুই দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ। আগামী ২-৩ দিন জেলাজুড়ে বৃষ্টি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, দুপুরে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




















