যমুনা নদীতে রেলসেতু আন্তঃদেশীয় পণ্যপরিবহনের সেতুবন্ধন
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩ ২১০ বার পড়া হয়েছে
পদ্মার পর এবারে যমুনা জয় করতে যাচ্ছে রেলপথ মন্ত্রক
উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নিবিড় হবে পণ্যপরিবহন
কৃষক পাবে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম
আমিনুল হক, ঢাকা
পদ্মার পর এবারে যমুনা জয় করতে যাচ্ছে রেলপথ মন্ত্রক। যমুনায় রেলসেতু কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। দিনরাত বিরামহীন কাজ করে চলেছেন কয়েক হাজার মানুষ। সেতু নির্মাণে কারীগরি সহায়তায় রয়েছে জাপান।
এর আগে যমুনা রেলসেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। এই সেতুটির জন্য উত্তরজনপদের মানুষই শুধু নয়, আন্তদেশীয় যোগাযোগ ক্ষেত্রেও মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
এই সেতুর ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সময় সাশ্রয়ী পরিবহন সুবিধা ভোগ করবে। কৃষক পাবেন তার ন্যায্যমূল্য। এ কারণে যমুনা তীরের মানুষ ছাড়াও উত্তরের সব কটি জেলার মানুষ আশায় বুক বেধে আছে। যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু রেলসেতু চালু হলে উত্তরজনপদের অর্থনীতি অমূল বদলে যাবে।
বর্তমানে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধ সেতু দিয়ে যানবাহনের পাশাপাশি আপদকালীন রেলপথ যুক্ত করা হয়েছে। এপথে মাত্র ৫কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে। বঙ্গবন্ধু রেলসেতু চালু হলে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
বঙ্গবন্ধু রেল সেতু চালু হলে উত্তরবঙ্গের জনপদের জীবনমান আরো উন্নয়ন ঘটবে। এই সেতু উত্তরবঙ্গের জনগণের যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবে। মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলার বোনারপাড়া স্টেশনে বন্ধ হয়ে যাওয়া রামসাগর এক্সপ্রেস পুনরায় চলাচলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালে সমৃদ্ধশালী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রী বলেন, জামাত-বিএনপি যাতে নাশকতা করে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ধারাকে নষ্ট করতে না পারে, সেই দিকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশের সকল জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার কাজ করছে হাসিনা সরকার। পাশাপাশি যেসব সিঙ্গেল লাইন রয়েছে, সেগুলো ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে পরিণত করতে জোরকদমে কাজ এগিয়ে চলছে। এসময় রেলপথ মন্ত্রী গাইবান্ধার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রামসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালুর। আজ তাদের সেই আশা পূরণ হলো। এক্সপ্রেস ট্রেনটি বোনারপাড়া স্টেশন থেকে গাইবান্ধা, দিনাজপুর হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত চলাচল করবে।
নুরুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙ্গন কবলিত উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত যাবতীয় উন্নয়নের জন্য কাজ করছে সরকার। সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে, কৃষকের চাহিদামতো সার ও কীটনাশকসহ কৃষকের যাবতীয় উপকরণ দিচ্ছে সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছে ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছে।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের চরাঞ্চলের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল কৃষক যাতে সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারে সেই জন্য সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের সাহায্যকারী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছে, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নলডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়নের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।




















