ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরান জয়ের ভাবনায় ট্রাম্পের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল কর্মসূচি ঘোষণা, রাজপথে নামছে জামায়াত চলমান জীবনের গল্প: কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত হবেন না, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে চরম মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল কৃষি ও জেলেদের সুরক্ষায় ইলিশা-রাজাপুর খাল পুনঃখননের দাবিতে মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি আরও তিন সাবেক উপদেষ্টা ও এক বিশেষ সহকারীর ব্যাংক হিসাব তলব বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শিগগির ঢাকার সক্রিয় চাঁদাবাজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক টানে অর্ধকোটির টাকার ইলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩ ২০৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ উপকূলের বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবী আবুল খায়েরের জালে একটানে ধরা পড়ল ১৭০ মণ ইলিশ। যা বিক্রি হলো ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। শনিবার বিকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ মাছের মোকাম মহিপুর মৎস্যবন্দরের আড়তে মাছগুলো তোলা হয়।

গত ২০ আগস্ট সাগরে মাছ ধরতে যান। ২৩ আগস্ট সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে জাল ফেলেন। সেদিন বিকালেই জাল তোলেন এবং প্রচুর ইলিশ মাছ পান। ২৬ আগস্ট দুপুরে তারা মহিপুরে পৌঁছান।

আবুল খায়ের জানান, তিনি মাছের ব্যবসা করতে গিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। যে কারণে স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে তিনি ৮ লাখ টাকা ধার নিয়ে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় খাবার কিনে সাগরে মাছ ধরতে রওয়া দেন।

একবার জাল ফেলার পর তুলতে গিয়ে দেখেন, জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। মহিপুর মৎস্য বন্দরের মিঠুন ফিশের মালিক মিঠুন দাস বলেন, জেলে আবুল খায়েরের জালে বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরা পড়েছে। ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রামের এলসি সাইজের মাছ রয়েছে ৫৭ মণ। ৪২ হাজার টাকা মণ দরে এর দাম হয়েছে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ ধরা পড়েছে ৬৮ মণ। ৩৩ হাজার টাকা মণ দরে দাম হয়েছে ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

তিনটিতে এক কেজি হয় এমন সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে ৯ মণ। ২৭ হাজার টাকা মণ দরে দাম হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়েছে এক মণ। এর দাম হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। ট্রলারে সঠিকভাবে ধরা পড়া ইলিশগুলো সুরক্ষা করতে না পারায় ৫০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের পাম (পঁচা) ইলিশ হয়েছে ৩৫ মণ। ১৫ হাজার টাকা দরে এর দাম হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ও ইলিশ গবেষক কামরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবার দেরিতে ইলিশ আহরণ শুরু হয়েছে। তা ছাড়া দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে, ইলিশের বড় অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর-আলিপুর সংলগ্ন কুয়াকাটা থেকে ঢালচর পর্যন্ত সাগর সীমানায় মহিসোপান দীর্ঘ।

এ ছাড়া এলাকাটি পাললিক হওয়ায় নদীর সঙ্গে সাগরের সংযোগ ক্যানাল বা চ্যানেল পলি পড়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। যার কারণে পরিবর্তিত চ্যানেল অভিপ্রায়ণশীল (মাইগ্রেশন) ইলিশের চিনে উঠতে সময় লাগছে। অচেনা পথে ইলিশ অভিপ্রায়ণে কিছুটা বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক টানে অর্ধকোটির টাকার ইলিশ

আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ উপকূলের বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবী আবুল খায়েরের জালে একটানে ধরা পড়ল ১৭০ মণ ইলিশ। যা বিক্রি হলো ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। শনিবার বিকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ মাছের মোকাম মহিপুর মৎস্যবন্দরের আড়তে মাছগুলো তোলা হয়।

গত ২০ আগস্ট সাগরে মাছ ধরতে যান। ২৩ আগস্ট সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে জাল ফেলেন। সেদিন বিকালেই জাল তোলেন এবং প্রচুর ইলিশ মাছ পান। ২৬ আগস্ট দুপুরে তারা মহিপুরে পৌঁছান।

আবুল খায়ের জানান, তিনি মাছের ব্যবসা করতে গিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। যে কারণে স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে তিনি ৮ লাখ টাকা ধার নিয়ে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় খাবার কিনে সাগরে মাছ ধরতে রওয়া দেন।

একবার জাল ফেলার পর তুলতে গিয়ে দেখেন, জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। মহিপুর মৎস্য বন্দরের মিঠুন ফিশের মালিক মিঠুন দাস বলেন, জেলে আবুল খায়েরের জালে বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরা পড়েছে। ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রামের এলসি সাইজের মাছ রয়েছে ৫৭ মণ। ৪২ হাজার টাকা মণ দরে এর দাম হয়েছে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ ধরা পড়েছে ৬৮ মণ। ৩৩ হাজার টাকা মণ দরে দাম হয়েছে ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

তিনটিতে এক কেজি হয় এমন সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে ৯ মণ। ২৭ হাজার টাকা মণ দরে দাম হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়েছে এক মণ। এর দাম হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। ট্রলারে সঠিকভাবে ধরা পড়া ইলিশগুলো সুরক্ষা করতে না পারায় ৫০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের পাম (পঁচা) ইলিশ হয়েছে ৩৫ মণ। ১৫ হাজার টাকা দরে এর দাম হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ও ইলিশ গবেষক কামরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবার দেরিতে ইলিশ আহরণ শুরু হয়েছে। তা ছাড়া দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে, ইলিশের বড় অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর-আলিপুর সংলগ্ন কুয়াকাটা থেকে ঢালচর পর্যন্ত সাগর সীমানায় মহিসোপান দীর্ঘ।

এ ছাড়া এলাকাটি পাললিক হওয়ায় নদীর সঙ্গে সাগরের সংযোগ ক্যানাল বা চ্যানেল পলি পড়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। যার কারণে পরিবর্তিত চ্যানেল অভিপ্রায়ণশীল (মাইগ্রেশন) ইলিশের চিনে উঠতে সময় লাগছে। অচেনা পথে ইলিশ অভিপ্রায়ণে কিছুটা বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।