বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে ডিসান
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩ ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে
হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরো আর গ্যাস্ট্রো এই চারটি বিষয়ে বিশেষায়িত সেবার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের সেবাও থাকবে। এক কথায় ডিসানের এক ছাদের তলায় আস্থাশীল চিকিৎসার নজির গড়তে চায়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর তুলনামূলক কমমূল্যে চিকিৎসা সেবা মিলবে। এক্ষেত্রে একজন মুমূর্যু রোগীকে নানা ধরণের সমস্যা মোকাবিলা করে দেশের বাইরে যেতে হবে না
আমিনুল হক, ঢাকা
‘রাতদিন সময়ে অসমেয়’ এই মানবিক স্লোগান নিয়ে দু’বাহু বাড়িয়ে দিয়েছে ডিসান হাসপাতাল। বাংলাদেশের মানুষদের এক ছাদের তলায় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দিতেই হাসপাতাল গড়ে তুলতে চায় ডিসান। সেখানে ডাক্তারসহ সিংহভাগ লোকবল থাকবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তুলার ইচ্ছে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ডিসান হাসপাতাল অ্যান্ড হার্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর নজল দত্ত। তার সঙ্গে রয়েছেন, ডিসান গ্রুপের ডিরেক্টর সাওলী দত্ত। সোমবার তারা বৈঠক করেন বাংলাদেশে বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে।
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট লোকবলের সিংহভাগই থাকবে বাংলাদেশের। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে রয়েছেন। এসব চিকিৎসা বিজ্ঞানিদের ফেরাতে ডিসান বাংলাদেশে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মপরিবেশ তৈরি করবে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সেখানে এসে যোগদান দেবেন। এমন প্রত্যাশার কথাই জানালেন, ডিসানের কর্ণধার সজল দত্ত।
মি. দত্ত ডিসানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, কলকতায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশী রোগীদের মধ্যে হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরো আর গ্যাস্ট্রো (পেটের রোগ) রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশে সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালটি গড়ে তোলার পর সেখানে বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সর্বোত্তম সেবাগুলো যুক্ত থাকবে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরো আর গ্যাস্ট্রো এই চারটি বিষয়ে বিশেষায়িত সেবার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের সেবাও থাকবে। এক কথায় ডিসানের এক ছাদের তলায় আস্থাশীল চিকিৎসার নজির গড়তে চায়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর তুলনামূলক কমমূল্যে চিকিৎসা সেবা মিলবে। এক্ষেত্রে একজন মুমূর্যু রোগীকে নানা ধরণের সমস্যা মোকাবিলা করে দেশের বাইরে যেতে হবে না।
সজল দত্ত জানালেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা এই চারটি বিভাগের যেকোন স্থানে জমি পেলে কাজ শুরু করবে। নার্সিংসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করতে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সাংবাদিক বৈঠকে এসে বাংলাদেশে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নানা বিষয়ে সবিস্তারে তুলে ধরেন ডিসান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিসান হাসপাতালের ডিরেক্টর সাওলী দত্ত।
সজল দত্ত জানান, বাংলাদেশের রোগীদের খুব বেশি চাওয়ার থাকে না। মোটাদাগে তাদের সুচিকিৎসা, ন্যায্য খরচ, এয়ারপোর্ট থেকে যাতায়াত এবং একছাতার নিচে স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতালটিতে বাংলাদেশের ডাক্তারই বেশি থাকবে, পাশাপাশি ভারতীয় ডাক্তারও থাকবে। উভয়ের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে অনেকে নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে।

চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ না থাকলেও নার্স এবং টেকনিশিয়ান সমস্যা থাকে। ভারতেও এই সংকট বিদ্যমান। এক্ষেত্রে ডিসান সেই সংকট কাটিয়ে ওঠতে সুপার ট্রেন্ড নার্স তৈরি করবে।
বাংলাদেশি ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক দল তৈরি করাও চেষ্টা থাকবে। তুলনামূলক কমমূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানই ডিসানের লক্ষ্য বলে জানালেন ডিরেক্টর সাওলী দত্ত ।
ডিসান হাসপাতাল অ্যান্ড হার্ট ইনস্টিটিউট, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ সুপার স্পেশালাইজড কার্ডিয়াক হাসপাতাল। পাশাপাশি গ্যাসট্রোএনটারলজি (খাদ্যনালী সংক্রান্ত), অর্থোপেডিক্স (হাড় সংক্রান্ত), ভাঙ্গা হাড় জোড়া, নিউরোলজি (নার্ভ এর সমস্যা সংক্রান্ত), ডারমাটলজি (ত্বক বা চামড়া সংক্রান্ত), গাইনকোলজি (স্ত্রী রোগ সংক্রান্ত), ইউরোলজি (কিডনি সংক্রান্ত), ইএনটি (নাক, কান গলা ) চিকিৎসাসহ ৩৯টি বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে।




















