ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ঠেকাতে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নাহিদ রানার ঝড়ো বোলিংয়ে পাকিস্তান পুড়ল, ২০৯ বল বাকি রেখে জয় বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লার পাহাড়, আগুনে নষ্ট হচ্ছে বিপুল মজুদ সূর্যমুখীর হলুদ হাসিতে ভরেছে টাঙ্গাইলের মাঠ, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, শপথ নেবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ভোলার চরাঞ্চলে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ: কৃষকের স্বপ্নে অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনা প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

তুঁহুঁ তুঁহুঁ

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, মালদা (পশ্চিমবঙ্গ)
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১ ৩৯৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা জন্মাষ্টমী। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কংশের কারাগারে জন্ম নেন। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনে ব্রতী ছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত’

 

যুদ্ধ যুদ্ধ আর কেবলই যুদ্ধ। যে শিশুটি ভাদ্রের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মে পৃথিবীকে কেবলমাত্র একটি বাঁশিরূপ অস্ত্রের সুরে মাত করেছিলেন- আসুন, আজ সমস্বরে বলি – Happy birthday to lord Krishna.
“বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্নাতি, নরোহপরানি,
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণস্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহি।”
মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে,দেহীও তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে।
ঘরে যুদ্ধ, বাইরে যুদ্ধ এবং শরীরে যুদ্ধ চলছে।কাবুল আজ তালিবানদের দখলে।একসময়ে ইন্ডিয়াও বৃটিশদের দখলে চলে গিয়ে নাম হয়েছিলো ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। আজকের বাংলাদেশের একসময়ে নাম ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। যুদ্ধের প্রয়োজনে যুদ্ধ হয়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে। আবার
অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধকেও আমরা নীরিক্ষণ করি। আমাদের সংকীর্ণতায় আমাদের দৈন্যতা। বড় করে ভাবতে পারিনা- “এ যুদ্ধগুলো কেনো সংঘটিত হয়?”
শরীরের ভেতরে-বাইরে পরিবর্তনের তালে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষ আজ পর্যুদস্ত! সমরাস্ত্রের বাজারে, দখলের মাতব্বরেরা অস্ত্র বিক্রির জন্য নিত্য নতুন বাজার তৈরি করছে।এইসব বাজারের খদ্দের বলতে তারাই, যারা কোনো না কোনোভাবে ঋণী হয়ে আছে দাদাদের কাছে। এদের কারো
নাম দ্বিতীয় বিশ্ব আবার কেউ বা তৃতীয় বিশ্বের দেশ। ঋণের সুদের হার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়লে তা শোধ করতে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয় প্রতিবেশী প্রতিযোগীকে পরাস্ত করবার জন্য। ওদিকে প্রতিবেশীও ঋণগ্রস্ত হয়েই আছে।
অতএব – “রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে
উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।”
প্রাণাতিপাত জীবনগুলো একদিন জন্মায়। যেমন শ্রীকৃষ্ণ জন্মেছিলো।জীবন মানেই যন্ত্রণা, ব্যাথা,সুখ, আনন্দ এবং অবশেষ..
সংঘটিত প্রতিটি যুদ্ধে, করোনা সমেত-ই, আমাদের একএকটি লিডারশীপের প্রয়োজন। যিনি পথ দেখান।তাঁর সঠিক নেতৃত্ব সূর্যের আলো স্বরূপ। গত দুবছর যাবৎ করোনা আবহে টিকা আবিস্কারের দিকে মানুষ তাকিয়ে থেকেছেন।
হে প্রাণাতিপ্রাণ, তুমি বড় মূল্যবান! সমস্ত জীবনকে বেঁধে রেখেছো প্রাণ– তুমিই! অতএব আমায় ছেড়ে যেওনা যেনো! কি অনুনয়! অথচ শোনে কে সে কথা! শরীরের ভেতরে যে কুরুক্ষেত্র চলছে! সেই সমরাস্ত্র কে যথাসময়ে গুছিয়ে তো রাখতে হবে!
অতএব সঞ্জয় উবাচ–
রাজা ধৃতরাষ্ট্র , আমি দেখতে পাচ্ছি৷ এইমাত্র উভয়পক্ষের সেনাদলের মাঝখানে জগৎপতি বিষাদগ্রস্ত অর্জুনকে বোঝাচ্ছেন—
তুমি যে সমস্ত আত্মীয় বর্গকে বড় আপনার ভেবে যুদ্ধ করবে না বলে স্থিরপ্রজ্ঞ, দেখো, মৃত্যুহীন প্রাণ বলে কিছুই হয় না। একটি জীবনের চলার ছন্দই হলো জন্ম থেকে মৃত্যুর দিকে যাত্রাকরা। অনন্তকাল বলে কিছুই হয় না। অতএব যারা মরেই আছে এবং জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করবার জন্যই
জন্মেছে, তুমি কেবল একজন ক্ষত্রীয় হিসেবে তোমার হাতটুকু দিয়ে তাদেরকে স্পর্শ করো।
বাঁশের বাঁশির মতো কাঠামোময় দেহকে বাজাও অর্জুন! দেখবে- এ দেহ কেবলই মায়া। আর যা দেখা যায় না, তা অবধ্য এক মহাপ্রাজ্ঞপ্রাণ।
সখা, তুমি সমস্ত বিষাদ ত্যাগ করে সেই প্রাণের অধিশ্বর হও,যা নশ্বর।
বড় অন্ধকার সময়। আলোকিত ঝলমলে দিন চাই আমাদের। নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ, আলোর খেলা চলুক আমাদের সংক্ষিপ্ত অথচ, মূল্যবান উপলব্ধ জীবনে।
করোনা সংকটের কারণে এ বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সারাদেশে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, মিছিল ও সমাবেশ হবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে কৃষ্ণপূজাসহ অন্যান্য আচার-বিধি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সারাদেশে বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনাসভা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তুঁহুঁ তুঁহুঁ

আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

‘সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা জন্মাষ্টমী। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কংশের কারাগারে জন্ম নেন। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনে ব্রতী ছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত’

 

যুদ্ধ যুদ্ধ আর কেবলই যুদ্ধ। যে শিশুটি ভাদ্রের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মে পৃথিবীকে কেবলমাত্র একটি বাঁশিরূপ অস্ত্রের সুরে মাত করেছিলেন- আসুন, আজ সমস্বরে বলি – Happy birthday to lord Krishna.
“বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্নাতি, নরোহপরানি,
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণস্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহি।”
মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে,দেহীও তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে।
ঘরে যুদ্ধ, বাইরে যুদ্ধ এবং শরীরে যুদ্ধ চলছে।কাবুল আজ তালিবানদের দখলে।একসময়ে ইন্ডিয়াও বৃটিশদের দখলে চলে গিয়ে নাম হয়েছিলো ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। আজকের বাংলাদেশের একসময়ে নাম ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। যুদ্ধের প্রয়োজনে যুদ্ধ হয়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে। আবার
অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধকেও আমরা নীরিক্ষণ করি। আমাদের সংকীর্ণতায় আমাদের দৈন্যতা। বড় করে ভাবতে পারিনা- “এ যুদ্ধগুলো কেনো সংঘটিত হয়?”
শরীরের ভেতরে-বাইরে পরিবর্তনের তালে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষ আজ পর্যুদস্ত! সমরাস্ত্রের বাজারে, দখলের মাতব্বরেরা অস্ত্র বিক্রির জন্য নিত্য নতুন বাজার তৈরি করছে।এইসব বাজারের খদ্দের বলতে তারাই, যারা কোনো না কোনোভাবে ঋণী হয়ে আছে দাদাদের কাছে। এদের কারো
নাম দ্বিতীয় বিশ্ব আবার কেউ বা তৃতীয় বিশ্বের দেশ। ঋণের সুদের হার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়লে তা শোধ করতে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয় প্রতিবেশী প্রতিযোগীকে পরাস্ত করবার জন্য। ওদিকে প্রতিবেশীও ঋণগ্রস্ত হয়েই আছে।
অতএব – “রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে
উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।”
প্রাণাতিপাত জীবনগুলো একদিন জন্মায়। যেমন শ্রীকৃষ্ণ জন্মেছিলো।জীবন মানেই যন্ত্রণা, ব্যাথা,সুখ, আনন্দ এবং অবশেষ..
সংঘটিত প্রতিটি যুদ্ধে, করোনা সমেত-ই, আমাদের একএকটি লিডারশীপের প্রয়োজন। যিনি পথ দেখান।তাঁর সঠিক নেতৃত্ব সূর্যের আলো স্বরূপ। গত দুবছর যাবৎ করোনা আবহে টিকা আবিস্কারের দিকে মানুষ তাকিয়ে থেকেছেন।
হে প্রাণাতিপ্রাণ, তুমি বড় মূল্যবান! সমস্ত জীবনকে বেঁধে রেখেছো প্রাণ– তুমিই! অতএব আমায় ছেড়ে যেওনা যেনো! কি অনুনয়! অথচ শোনে কে সে কথা! শরীরের ভেতরে যে কুরুক্ষেত্র চলছে! সেই সমরাস্ত্র কে যথাসময়ে গুছিয়ে তো রাখতে হবে!
অতএব সঞ্জয় উবাচ–
রাজা ধৃতরাষ্ট্র , আমি দেখতে পাচ্ছি৷ এইমাত্র উভয়পক্ষের সেনাদলের মাঝখানে জগৎপতি বিষাদগ্রস্ত অর্জুনকে বোঝাচ্ছেন—
তুমি যে সমস্ত আত্মীয় বর্গকে বড় আপনার ভেবে যুদ্ধ করবে না বলে স্থিরপ্রজ্ঞ, দেখো, মৃত্যুহীন প্রাণ বলে কিছুই হয় না। একটি জীবনের চলার ছন্দই হলো জন্ম থেকে মৃত্যুর দিকে যাত্রাকরা। অনন্তকাল বলে কিছুই হয় না। অতএব যারা মরেই আছে এবং জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করবার জন্যই
জন্মেছে, তুমি কেবল একজন ক্ষত্রীয় হিসেবে তোমার হাতটুকু দিয়ে তাদেরকে স্পর্শ করো।
বাঁশের বাঁশির মতো কাঠামোময় দেহকে বাজাও অর্জুন! দেখবে- এ দেহ কেবলই মায়া। আর যা দেখা যায় না, তা অবধ্য এক মহাপ্রাজ্ঞপ্রাণ।
সখা, তুমি সমস্ত বিষাদ ত্যাগ করে সেই প্রাণের অধিশ্বর হও,যা নশ্বর।
বড় অন্ধকার সময়। আলোকিত ঝলমলে দিন চাই আমাদের। নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ, আলোর খেলা চলুক আমাদের সংক্ষিপ্ত অথচ, মূল্যবান উপলব্ধ জীবনে।
করোনা সংকটের কারণে এ বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সারাদেশে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, মিছিল ও সমাবেশ হবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে কৃষ্ণপূজাসহ অন্যান্য আচার-বিধি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সারাদেশে বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনাসভা।