ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম

মোসারফ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ ৪২২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মৌ খামার করে মোসারফ হোসেন আজ স্বাবলম্বি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ভ্রাম্যমান মৌ খামার বসিয়ে মধু আহরোহণ করে থাকেন তিনি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর সুন্দরবন সংলগ্ন জায়গারটির নাম মুন্সীগঞ্জ। এখানেই নিবাস মৌচাষি মোসারফ হোসেনের। তিনি জানান, ২০০০ সালে আফজাল হোসেন নামে এক মৌচাষি মুন্সীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্স বসান। তা দেখেই তিনি মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তখন মাত্র পাঁচটি বাক্স দিয়ে তার ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার শুরু হয়। এখন খামারে রয়েছে দুইশ’ বাক্স।

খরচ কম ও তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ মৌ চাষকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। জানা গেল মৌ চাষ সারা বছর হলেও মধু উৎপাদন হয় মাত্র পাঁচ মাস। এ পাঁচ মাসে কখনও লিচুর ফুলের মৌসুমে পাবনা, ঈশ্বরদী, কালো জিরা চাষের মৌসুমে মাদারীপুর, সরিষার মৌসুমে মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, এপ্রিলে সুন্দরবন-এভাবেই যেখানে যে ফুল ফোটে, সেখানে ছুটে যান মোসাররফ। সঙ্গী তার মৌ বাক্স।

ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার স্থাপন করে মধু উৎপাদন একটি লাভজনক পেশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুইশ’ বাক্সের একটি খামার চালাতে পাঁচজন কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। তাদের পারিশ্রমিক ও ভরণ পোষণ, যাতায়াত খরচ, অফ সিজনে মৌমাছিগুলোকে খাওয়ানোসহ যাবতীয় খরচ দিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় দেড় টন সরিষা, দুই টন লিচু, এক টন সুন্দরবনের মধু ও ৫০০ কেজি কালো জিরার মধু পাওয়া যায়। যা প্রায় ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ বছরে পাঁচ লাখ টাকা লাভ হয়।

ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও মধু উৎপাদনের সম্পর্কে মোসাররফ জানান, সারাদেশে দেড় থেকে দুই হাজার মৌচাষি রয়েছেন। যারা ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার স্থাপন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর অর্ধেক আবার সাতক্ষীরার। এখন মধু বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু মধু রপ্তানি বা মৌ খামার স্থাপনে সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মধু উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মোসারফ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মৌ খামার করে মোসারফ হোসেন আজ স্বাবলম্বি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ভ্রাম্যমান মৌ খামার বসিয়ে মধু আহরোহণ করে থাকেন তিনি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর সুন্দরবন সংলগ্ন জায়গারটির নাম মুন্সীগঞ্জ। এখানেই নিবাস মৌচাষি মোসারফ হোসেনের। তিনি জানান, ২০০০ সালে আফজাল হোসেন নামে এক মৌচাষি মুন্সীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্স বসান। তা দেখেই তিনি মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তখন মাত্র পাঁচটি বাক্স দিয়ে তার ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার শুরু হয়। এখন খামারে রয়েছে দুইশ’ বাক্স।

খরচ কম ও তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ মৌ চাষকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। জানা গেল মৌ চাষ সারা বছর হলেও মধু উৎপাদন হয় মাত্র পাঁচ মাস। এ পাঁচ মাসে কখনও লিচুর ফুলের মৌসুমে পাবনা, ঈশ্বরদী, কালো জিরা চাষের মৌসুমে মাদারীপুর, সরিষার মৌসুমে মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, এপ্রিলে সুন্দরবন-এভাবেই যেখানে যে ফুল ফোটে, সেখানে ছুটে যান মোসাররফ। সঙ্গী তার মৌ বাক্স।

ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার স্থাপন করে মধু উৎপাদন একটি লাভজনক পেশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুইশ’ বাক্সের একটি খামার চালাতে পাঁচজন কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। তাদের পারিশ্রমিক ও ভরণ পোষণ, যাতায়াত খরচ, অফ সিজনে মৌমাছিগুলোকে খাওয়ানোসহ যাবতীয় খরচ দিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় দেড় টন সরিষা, দুই টন লিচু, এক টন সুন্দরবনের মধু ও ৫০০ কেজি কালো জিরার মধু পাওয়া যায়। যা প্রায় ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ বছরে পাঁচ লাখ টাকা লাভ হয়।

ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও মধু উৎপাদনের সম্পর্কে মোসাররফ জানান, সারাদেশে দেড় থেকে দুই হাজার মৌচাষি রয়েছেন। যারা ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার স্থাপন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর অর্ধেক আবার সাতক্ষীরার। এখন মধু বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু মধু রপ্তানি বা মৌ খামার স্থাপনে সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মধু উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা সম্ভব।