৫৫ কেজি সোনা চুরির ঘটনায় শনাক্ত ২ সন্দেহের তালিকায় দুই কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০৭:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
বিমানবন্দর কাস্টমসের সুরক্ষিত গুদাম থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরির ঘটনায় এরই মধ্যে ২জন শনাক্ত।
সন্দেহের তালিকায় রয়েছে দুই কর্মকর্তা।
গুদামের দায়িত্বে থাকা চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও চার সিপাহিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
ঢাকা বিমানবন্দর কাস্টমসের সুরক্ষিত গুদাম থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরির ঘটনায় এরই মধ্যে ২জন শনাক্ত। সন্দেহের তালিকায় রয়েছে দুই কর্মকর্তা।
গুদামের দায়িত্বে থাকা চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও চার সিপাহিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চুরির ঘটনায় রবিবার রাতে মামলা রেকর্ডের পর পরই তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। কাস্টমসের দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে শুল্ক বিভাগের চারজন সিপাহিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের দাবি, গুদাম থেকে সোনা চুরির ঘটনাটি কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরও দুই সপ্তাহ আগেই টের পান। এরপর তারা গুদামে রক্ষিত মালামালের হিসাব মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। এ অবস্থায় গত শনিবার একটি লকার ভাঙা শনাক্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন পালায় এই গুদামে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন চারজন কর্মকর্তা। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা জমা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় তালিকা দিয়েছেন।
এমনকি এক সপ্তাহ থেকে চার মাসের মধ্যে আটক সোনার তালিকাও করে দিয়েছিলেন তারা। তাদের দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে অনেক সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কিছু সোনা দীর্ঘদিন ধরে গুদাম থাকলেও সেসবের কোনো তালিকা এই কর্মকর্তারা দেননি। আর সেটা জানা গেল ৫৫ কেজি সোনা চুরি বিষয়টি ধরা পড়ার পরে।
ঢাকা শুল্ক বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, কেন এসব সোনার তালিকা তৈরি করা হয়নি, তা চার কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
তার ধারণা অনেক দিন ধরেই গুদামের লকার থেকে সোনা সরানো হচ্ছিল। হিসাব মেলানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর চুরির নাটক সাজানো হয়েছে। এর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা কেউ না কেউ জড়িত, যাদের সঙ্গে বাইরের চোরাচালানকারী চক্রের যোগসূত্র থাকলেও থাকতে পারে।
এই ঘটনায় করা মামলায় বলা হয়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে শুল্ক বিভাগের গুদামে বিভিন্ন পালাক্রমে (শিফট) দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ রানা, সাইফুল ইসলাম শাহেদ, শহিদুল ইসলাম ও আকতার শেখ এবং সিপাহি রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন ও নিয়ামত হাওলাদার।
বিমানবন্দরে অবৈধ সোনা জব্দ, শুল্কের জন্য সাময়িকভাবে আটক করা বা চোরাচালানের মাধ্যমে আসা সোনাসহ অন্যান্য মূলব্যান সামগ্রী টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় কাস্টমস গুদামে রাখা হয়। এই গুদাম থেকেই ৫৫ কেজি সোনা গায়েবের ঘটনা ফাঁস হয় শনিবার।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে। পরে ঘটনা তদন্ত পাঁচজনের কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে রবিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলাও করা হয়।




















