ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক

১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো. আনিছুর রহমান, বেনাপোল

১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যশোরের বেনাপোল পৌরবাস টার্মিনালটি আট বছর ধরে অকার্যকর পড়ে আছে। যাত্রীবাহী কোনো বাস না থাকায় বিশাল এই অবকাঠামো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় খাঁখাঁ করছে। দুইবার উদ্বোধনের পরও এখানে শুরু হয়নি নিয়মিত সার্ভিস। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ ব্যবহারের সুযোগ না পেয়েই নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টার্মিনালটি চালু না থাকায় সন্ধ্যার পর এটি মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ঠাঁইয়ে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা এসে টার্মিনালে সেবন করে যায়। এতে স্থানীয় উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যেও মাদকের প্রতি ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বাস চলাচল শুরু হলে লোকসমাগম বাড়ত, ফলে এ ধরনের অপকর্মও কমে যেত বলে মনে করেন তারা।

বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কাগজপুকুর এলাকায় দীর্ঘ যানজট নিরসনে ২০১৭ সালে টার্মিনালটি নির্মাণ করে বেনাপোল পৌরসভা। কিন্তু বাসমালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থে টার্মিনালটি আজও অকার্যকর রয়ে গেছে। ফলে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও যানজট ও ভোগান্তি কমছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নোম্যান্সল্যান্ড-সংলগ্ন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও পরিবহনের চাপে যশোর রোডে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাগজপুকুর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে কোনোদিনই এখান থেকে নিয়মিত বাস চলাচল শুরু হয়নি।

১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল
১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেনাপোল পৌরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব নেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের নির্দেশনায় তিনি গত বছরের ৭ নভেম্বর টার্মিনালটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। এক সপ্তাহ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মালিক-শ্রমিকরা কৌশলে টার্মিনালে দু-একটি গাড়ি রাখলেও বাকি বাস আগের মতোই নোম্যান্সল্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, টার্মিনালটি ব্যবহার না করার পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন ভূমিকা রাখছে। তাদের দাবি, পৃথিবীর কোনও দেশে সীমান্ত চেকপোস্ট থেকে এত দূরে বাস টার্মিনাল থাকে না। তাই এই স্থান নির্বাচনই ছিল ‘অবাস্তব চিন্তা’। স্থানীয় অনেকের মধ্যেও টার্মিনালের অবস্থান নিয়ে সংশয় রয়েছে।

শার্শার ইউএনও ও বেনাপোল পৌরসভার প্রশাসক ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন,
গত বছরের ৭ নভেম্বর আমরা টার্মিনালটি আধুনিক সব সুবিধাসহ চালু করি। নামাজের জায়গা, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, আনসারদের থাকার ব্যবস্থা সবই ছিল। তবুও মালিকেরা নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করছেন না; বরং বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত টার্মিনালের দিকে বাস নিচ্ছেন। অথচ সেই টার্মিনাল কেবল আন্তঃদেশীয় বাসের জন্য নির্ধারিত।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মো. আনিছুর রহমান, বেনাপোল

১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যশোরের বেনাপোল পৌরবাস টার্মিনালটি আট বছর ধরে অকার্যকর পড়ে আছে। যাত্রীবাহী কোনো বাস না থাকায় বিশাল এই অবকাঠামো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় খাঁখাঁ করছে। দুইবার উদ্বোধনের পরও এখানে শুরু হয়নি নিয়মিত সার্ভিস। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ ব্যবহারের সুযোগ না পেয়েই নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টার্মিনালটি চালু না থাকায় সন্ধ্যার পর এটি মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ঠাঁইয়ে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা এসে টার্মিনালে সেবন করে যায়। এতে স্থানীয় উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যেও মাদকের প্রতি ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বাস চলাচল শুরু হলে লোকসমাগম বাড়ত, ফলে এ ধরনের অপকর্মও কমে যেত বলে মনে করেন তারা।

বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কাগজপুকুর এলাকায় দীর্ঘ যানজট নিরসনে ২০১৭ সালে টার্মিনালটি নির্মাণ করে বেনাপোল পৌরসভা। কিন্তু বাসমালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থে টার্মিনালটি আজও অকার্যকর রয়ে গেছে। ফলে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও যানজট ও ভোগান্তি কমছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নোম্যান্সল্যান্ড-সংলগ্ন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও পরিবহনের চাপে যশোর রোডে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাগজপুকুর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে কোনোদিনই এখান থেকে নিয়মিত বাস চলাচল শুরু হয়নি।

১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল
১৬ কোটি টাকার বেনাপোল বাস টার্মিনাল এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেনাপোল পৌরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব নেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের নির্দেশনায় তিনি গত বছরের ৭ নভেম্বর টার্মিনালটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। এক সপ্তাহ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মালিক-শ্রমিকরা কৌশলে টার্মিনালে দু-একটি গাড়ি রাখলেও বাকি বাস আগের মতোই নোম্যান্সল্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, টার্মিনালটি ব্যবহার না করার পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন ভূমিকা রাখছে। তাদের দাবি, পৃথিবীর কোনও দেশে সীমান্ত চেকপোস্ট থেকে এত দূরে বাস টার্মিনাল থাকে না। তাই এই স্থান নির্বাচনই ছিল ‘অবাস্তব চিন্তা’। স্থানীয় অনেকের মধ্যেও টার্মিনালের অবস্থান নিয়ে সংশয় রয়েছে।

শার্শার ইউএনও ও বেনাপোল পৌরসভার প্রশাসক ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন,
গত বছরের ৭ নভেম্বর আমরা টার্মিনালটি আধুনিক সব সুবিধাসহ চালু করি। নামাজের জায়গা, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, আনসারদের থাকার ব্যবস্থা সবই ছিল। তবুও মালিকেরা নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করছেন না; বরং বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত টার্মিনালের দিকে বাস নিচ্ছেন। অথচ সেই টার্মিনাল কেবল আন্তঃদেশীয় বাসের জন্য নির্ধারিত।