শুল্কবিহীন মদসহ দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বারিধারায় একটি গাড়ি থেকে ৫২ বোতল বিদেশি মদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে : ছবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
বাংলাদেশে মদ আমদানির শুল্কহার ৫৯৬ থেকে ৬১১ শতাংশ। মানে হলো, এক লিটার মদের দাম যদি ১০০ টাকা হয়, তাহলে বাংলাদেশে শুল্কসহ দাম দাঁড়াবে ৭০০ টাকার বেশি। বিয়ারের শুল্কহার ৪৪৩ শতাংশ
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গত দুই সেপ্টেম্ব ঢাকার বারিধারা এলাকায় অভিযান চালায়। সে সময় একটি গাড়ি থেকে শুল্কবিহীন ৫২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে।
এসময় জড়িত সন্দেহে গাড়িচালকসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে ধৃতদের মধ্যে দুইজন মোহাম্মদ সানোয়ার ও রিয়াজউদ্দিন ভারতীয় নাগরিক।
নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ সানোয়ার ও রিয়াজউদ্দিনের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। দেখা যায়, রিয়াজউদ্দিন গত ৮ মাসে ৪০ বারের বেশি বাংলাদেশে যাতায়ত করেছেন।
ডিএনসির তরফে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয়েছে, কয়েকটি চক্র ভারত থেকে নিয়মিত মদ নিয়ে আসছে এবং এসব মদ বিক্রির সুবিধাজনক জায়গা হিসাবে গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ ঢাকার অভিজাত এলাকা বেছে নিয়েছে।
অবৈধ পথে শুল্কবিহীন মদ আনা ও বিক্রি করায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ডিএনসি জানায়, চক্রগুলোর সঙ্গে ভারতীয় কিছু নাগরিক জড়িত। তারা মূলত মদ আনার কাজটি করে থাকে।
বাংলাদেশে মদ আমদানির শুল্কহার ৫৯৬ থেকে ৬১১ শতাংশ। মানে হলো, এক লিটার মদের দাম যদি ১০০ টাকা হয়, তাহলে বাংলাদেশে শুল্কসহ দাম দাঁড়াবে ৭০০ টাকার বেশি। বিয়ারের শুল্কহার ৪৪৩ শতাংশ।
ডিএনসির একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০ থেকে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক ট্রেনে করে নিয়মিত বাংলাদেশে আসেন। তারা মূলত লাগেজ পার্টির সদস্য। লাগেজে করে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে মদ নিয়ে আসেন এবং বাংলাদেশি চক্রের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তারা ভারতে ফিরে যান।
বিগত তিন মাসে এমন চারটি বিদেশি মদের চালান জব্দ ও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে বনানীর কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে মনির হোসেন নামের একজনকে ৫৬ বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিদেশি মদ উদ্ধার করে : ছবি সংগ্রহ
কড়াইল বস্তিতে মিম ফ্যাশন গ্যালারি নামে তার একটি দোকান রয়েছে। পোশাকের ব্যবসা করতে গিয়েই তার সঙ্গে লাগেজ পার্টির সদস্যদের পরিচয় হয়।
২১ জুলাই গুলশান-২ এলাকা থেকে গোলাম মোস্তফা ও মো. ইউসুফ নামে দুজনকে ৩১ বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭ বোতল বিদেশিসহ নাদিম আক্তার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি চক্রটির প্রধান সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তিনি ভারত থেকে পোশাক আমদানি করেন। হাতিরপুল এলাকায় তার পোশাকের দোকান রয়েছে। গ্রেপ্তার নাদিম আক্তার সিদ্দিকুর রহমানের দোকানের সেলসম্যান।
সিদ্দিকুর রহমানকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে নাদিমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা মামলায় সিদ্দিকুরকে আসামি করা হয়েছে।
সংস্থাটির ঢাকা মহানগর উত্তরের উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভারতীয় কিছু নাগরিকের মাধ্যমে আনা বিদেশি মদ গুলশান-বনানীতে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। চক্রের মূল হোতা একজন বাংলাদেশি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অবশ্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কূটনীতিকদের জন্য বিনা শুল্কে মদ কেনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মদ বাইরে বিক্রি হতো।
বছর দুয়েক আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কড়াকড়ির কারণে বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলোতে মদ আমদানি ও বিক্রির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যারে যুক্ত করতে হচ্ছে।
এতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কূটনীতিকদের জন্য আনা বিদেশি মদ বাইরে বিক্রির সুযোগ কমেছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে মদ অবৈধভাবে বিক্রি বন্ধ হওয়ায় ভারত থেকে লাগেজে আনা বেড়েছে। চক্রের মূল হোতা বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাশেদুজ্জামান, ডিএনসির ঢাকা মহানগর উত্তর অঞ্চলের উপপরিচালক বলেন, যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে আসার সময় একজন বিদেশি নাগরিক এক লিটার পর্যন্ত মদ বা সমজাতীয় পানীয় শুল্ক ছাড়া নিয়ে আসতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের কোন সুযোগ নেই। আর শুল্ক ছাড়া আনা মদ বাইরে বিক্রি করা নিষিদ্ধ।



















