ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘ-হাতি শিকারে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্বাচনী মাঠে এখনো সমান সুযোগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশই লক্ষ্য: প্রেস সচিব ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে টেকসই উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সূচনা মাদুরোর নজির টেনে কাদিরভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আহ্বান জেলেনস্কির এবার পাতানো নির্বাচন হবে না: কড়া বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনের মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ৭ লাখ ২৮ হাজার প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে ইসি এলপিজি ঘিরে নীরব অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে জিম্মি ভোক্তা, কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইসমত শিল্পীর কবিতা ‘অশ্রুবাষ্প’ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশ: সর্বোচ্চ গুণতে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে একই কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। এবার সেই শুল্ক আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।

রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দিতে শিগগিরই মার্কিন আইনসভায় একটি বিল পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, এই বিল পেশের বিষয়ে ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে ভোটাভুটি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, এই বিল পাস হলে যেসব দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোই এই শাস্তির আওতায় পড়বে। তিনি তার পোস্টে ভারত ছাড়াও চীন ও ব্রাজিলের নাম উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য নয়াদিল্লির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া রাশিয়ার দুই বড় তেল কোম্পানি—রসনেফ্ট ও লুকঅয়েল—এর ওপর ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। আমরা খুব দ্রুতই ওদের ওপর আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।”

তবে মার্কিন চাপের মুখেও নয়াদিল্লি বারবার জানিয়ে এসেছে, তারা দেশের ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে। কোন দেশ থেকে কতটা সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

উল্লেখ্য, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে বড় অঙ্কের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। এরপর থেকেই রাশিয়ার তেল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

অশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে একই কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। এবার সেই শুল্ক আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।

রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দিতে শিগগিরই মার্কিন আইনসভায় একটি বিল পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, এই বিল পেশের বিষয়ে ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে ভোটাভুটি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, এই বিল পাস হলে যেসব দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোই এই শাস্তির আওতায় পড়বে। তিনি তার পোস্টে ভারত ছাড়াও চীন ও ব্রাজিলের নাম উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য নয়াদিল্লির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া রাশিয়ার দুই বড় তেল কোম্পানি—রসনেফ্ট ও লুকঅয়েল—এর ওপর ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। আমরা খুব দ্রুতই ওদের ওপর আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।”

তবে মার্কিন চাপের মুখেও নয়াদিল্লি বারবার জানিয়ে এসেছে, তারা দেশের ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে। কোন দেশ থেকে কতটা সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

উল্লেখ্য, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে বড় অঙ্কের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। এরপর থেকেই রাশিয়ার তেল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা