ভোলায় বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন আল মামুন শেখ
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
ভোলার মেঘনা নদীতে ভাসমান ও বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত অসহায় বেদে সম্প্রদায়ের তীব্র শীত নিবারণে শীতবস্ত্র তথা কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরফে এই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জীবনযাত্রায় এই কম্বল পেয়ে বেদে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে
তীব্র শীতে কাঁপছে সারাদেশ। উত্তরের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও এর প্রভাব পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলেও। শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায়। মেঘনা নদীঘেঁষা এই জেলার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন মাছ ধরে। বছরের অধিকাংশ সময় জলজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এসব মানুষ শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন।
বিশেষ করে ভোলার বেদে সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। ঘরবাড়িহীন এই জনগোষ্ঠীর নৌকাই তাদের একমাত্র আশ্রয়। আদি পেশার কোনো প্রসার না থাকায় জীবিকার তাগিদে মাছ ধরাকেই বেছে নিতে হয়েছে তাদের। কিন্তু মেঘনায় মাছ ধরেই যেখানে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য, সেখানে শীতবস্ত্র কেনা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
ভোলায় কয়েক হাজার বেদে পরিবারের বসবাস। তীব্র শীতে তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে সমাজের সহানুভূতিশীল ও সামর্থবান মানুষের সহায়তা। এমন মানবিক সংকটের সময়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন শেখ।
সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে দুই শতাধিক বেদে পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। শীতার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কম্বল পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বেদে সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য সহায়তার আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, শীত মোকাবিলায় এ ধরনের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আরও বাড়ানো জরুরি। মানবিক সহায়তার এই দৃষ্টান্ত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



















