ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরান যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ইরান জয়ের ভাবনায় ট্রাম্পের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল কর্মসূচি ঘোষণা, রাজপথে নামছে জামায়াত চলমান জীবনের গল্প: কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত হবেন না, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে চরম মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল কৃষি ও জেলেদের সুরক্ষায় ইলিশা-রাজাপুর খাল পুনঃখননের দাবিতে মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি আরও তিন সাবেক উপদেষ্টা ও এক বিশেষ সহকারীর ব্যাংক হিসাব তলব বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

বাংলাদেশের সৈকতে ইউরোপের বিষাক্ত-বিপজ্জনক জাহাজ : এইচআরডব্লিউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকতে ভাঙা হচ্ছে একটি জাহাজ ছবি: সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বিপজ্জনক ও বাতিল জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ইউরোপ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম তাদের প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই জাহাজভাঙা শিল্প খুবই বিপজ্জনক, পরিবেশ দূষণকারী এবং এখানে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটি ‘ট্রেডিং লাইভস ফর প্রফিট বা মুনাফার জন্য জীবন কেনাবেচা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানি জেনেশুনে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজগুলো বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প সমুদ্রসৈকতে বিষাক্ত জাহাজ ভাঙা রোধে প্রণীত আইন লঙ্ঘন করে, প্রায়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রসৈকতে ও আশপাশেফেলছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বিশ্রাম বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। সংগঠন দুটো তাদের ৯০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে জাহাজভাঙা কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের জীবন ও পরিবেশের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করছে।’ এ সময় তিনি পরামর্শ দেন এসব ক্ষয়ক্ষতি বন্ধ করতে শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের ফাঁকফোকরগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ ভাঙা বা স্ক্যাপিংয়ের জন্য বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫২০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে, যেখানে কাজ করেছেন আনুমানিক ২০ হাজার শ্রমিক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজ ভাঙাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের ওপর ২০১৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, এই খাতে আনুমানিক ১৩ শতাংশ শ্রমিক শিশু। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধভাবে রাতে কাজ করানো হয় অনেক শিশুকেই, ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।

বাংলাদেশের শিপ ব্রেক ইয়ার্ডগুলোতে ‘বিচিং বা সৈকতায়ন’ নামক একটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেখানে কোনো ডক বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করে জাহাজগুলোকে জোয়ারের সময় সাগরতীরে আনা হয় এবং সেখানেই ভাঙার পুরো কাজ করা হয়। এ সময় কাজের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি বালু ও সমুদ্রে মিশে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক পুরোনো জিনিসপত্র স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

নিয়ম অনুসারে, যেসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ব্যবহার করে থাকে, সেগুলো মালিকপক্ষ বাতিল করতে চাইলে কেবল ইইউ অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভাঙা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের সৈকতে ইউরোপের বিষাক্ত-বিপজ্জনক জাহাজ : এইচআরডব্লিউ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বিপজ্জনক ও বাতিল জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ইউরোপ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম তাদের প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই জাহাজভাঙা শিল্প খুবই বিপজ্জনক, পরিবেশ দূষণকারী এবং এখানে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটি ‘ট্রেডিং লাইভস ফর প্রফিট বা মুনাফার জন্য জীবন কেনাবেচা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানি জেনেশুনে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজগুলো বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প সমুদ্রসৈকতে বিষাক্ত জাহাজ ভাঙা রোধে প্রণীত আইন লঙ্ঘন করে, প্রায়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রসৈকতে ও আশপাশেফেলছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বিশ্রাম বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। সংগঠন দুটো তাদের ৯০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে জাহাজভাঙা কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের জীবন ও পরিবেশের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করছে।’ এ সময় তিনি পরামর্শ দেন এসব ক্ষয়ক্ষতি বন্ধ করতে শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের ফাঁকফোকরগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ ভাঙা বা স্ক্যাপিংয়ের জন্য বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫২০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে, যেখানে কাজ করেছেন আনুমানিক ২০ হাজার শ্রমিক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজ ভাঙাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের ওপর ২০১৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, এই খাতে আনুমানিক ১৩ শতাংশ শ্রমিক শিশু। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধভাবে রাতে কাজ করানো হয় অনেক শিশুকেই, ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।

বাংলাদেশের শিপ ব্রেক ইয়ার্ডগুলোতে ‘বিচিং বা সৈকতায়ন’ নামক একটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেখানে কোনো ডক বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করে জাহাজগুলোকে জোয়ারের সময় সাগরতীরে আনা হয় এবং সেখানেই ভাঙার পুরো কাজ করা হয়। এ সময় কাজের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি বালু ও সমুদ্রে মিশে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক পুরোনো জিনিসপত্র স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

নিয়ম অনুসারে, যেসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ব্যবহার করে থাকে, সেগুলো মালিকপক্ষ বাতিল করতে চাইলে কেবল ইইউ অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভাঙা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না।