দাকোপের বাঁকে বাঁকে উন্নয়নের শঙ্কচিল (২)
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের উদ্যোগে আলোকিত দাকোপ
‘বিপ্লব বসত করে যেখানে’
৮০ ছুঁই ছুঁই মানুষটি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে ফোকলামুখে হাসি ছড়িয়ে ‘হাসিনা মায়ের উন্নয়ন বাংলা’ ‘চোখে জল আনা’ এই শব্দটি যখন মনের গভীর থেকে উচ্চারণ করেন, তখন মনে হায়েছে, তাদের এই প্রাপ্যটুকু পেতে ৫০ বছর কেটে গেলো!
৫০ বছর দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই কাটিয়ে দিয়েছেন দাকোপের বাসিন্দারা
অনিরুদ্ধ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর পশুর, শিবসা, ভদ্রা, চুনকুড়ি, ঢাকী, মাংগা, ঢাংমারী ও ঝপঝপিয়া নদী দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। কিন্তু এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের অভাব দূর হয়নি। সংস্কারে হাত লাগানো হয়নি মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মাদ্রাসায়। হাঁটু ভাঙ্গা কাঁদা মাড়িয়ে মানুষকে চলতে হয়েছে মাইলের পর মাইল। বিদ্যুৎহীন এলাকাবাসীর ভরসা ছিল কুপি-হারিকেন। এক দুই বছর নয়, ৫০ বছর ধরে এমন দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই কাটিয়ে দিয়েছেন দাকোপের বাসিন্দারা।

এলাকা ঘুরে জানা গেলো, খুলনা-১ আসনের আন্তর্ভুক্ত দাকোপ। সুন্দরবনসহ ৯৯১.৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী লোকসংখ্যা ১,৫৮,৩০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯,২৯২ এবং মহিলা ৭৯,০১৭জন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পুর্নগঠনে হাত লাগালেন। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত অবস্থানে নিতে প্রথমেই যে কাজটি করলেন, তাহল জ্বালানির ব্যবস্থা। এই চিন্তাকে মাথায় রেখে শিল্পকারখানা সচল করা, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট মেরামত, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা, কৃষকের জন্য সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করা থেকে শুরু করে খাদ্য-বস্ত্রের যোগান দেওয়া সব কিছুই ভাবতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে।

কিন্তু তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ থেমে গেল ৭৫’র ১৫ আগস্ট। তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা গেল। সেই সঙ্গে বাংলার আকাশে নেমে এলো অন্ধকার। দেশ এবং মানুষকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে বছরের পর বছর যে মানুষটিকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে, অথচ আপোষ করেননি, সেই বঙ্গবন্ধুকে একদল বিশ্বাসঘাতক হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে।
দীর্ঘ ২১ বছর ১৯৯৬ সালে বাংলার মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু পাঁচ বছর পর ফের ষড়যন্ত্র! হেরে যায় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশপরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। সেই থেকেই ধারাবাহিক উন্নয়নের যাত্রা শুরু।

বাংলার আকাশে যে কালো মেঘ জমে ছিল তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে। শেখ হাসিনা দেশপরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই প্রথমে হাত লাগালেন জ্বালানিখাতের উন্নয়নে। তখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হতো ৬-৮ ঘণ্টা। গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘন্টা লোডশেডিং। কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ, রপ্তানি কমে গেছে দ্রুত, রাস্তাঘাটের সমস্যায় জর্জরিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমন অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
তিনি আর দশটি নেতার মতো হতে পারেননি। কারণ, তাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জাতিরপিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। দেশের মানুষের জন্য দায় সারা চিন্তা-ভাবনার জন্য শেখ হাসিনার জন্ম হয়নি। তিনি যে বাংলার অবিসংবাদী নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব যে তাকেই নিতে হবে।

আত্মবিশ্বাস আর সাহসে বলিয়ান শেখ হাসিনা। মানুষ ও নিজের প্রতি তার আস্থা রয়েছে। তার সামনে পথ একটাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোলমডেল হিসাবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে অবিচল থেকে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটে চলেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। তার আত্মবিশ্বাসের ফসল পেতে শুরু করে বাংলার মানুষ।

৫০ বছর পর পাকা রাস্তা!
বাংলাদেশের নামের সঙ্গে এক নতুন শব্দ যোগ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বলে থাকেন ‘হাসিনা মায়ের উন্নয়ন বাংলা’। ৮০ ছুঁই ছুঁই মানুষটি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে যখন ফোকলামুখে হাসি ছড়িয়ে ‘চোখে জল আনা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন, তখন মনে হায়েছে, তাদের এই প্রাপ্যটুকু পেতে ৫০ বছর কেটে গেলো! এটা কি তাদের ভাগ্য না দুর্ভাগ্য তার বিচার করা গেল না। তবে ৩০ বছরের টগবগে যুবক আজ ৮০তে পা দিয়ে পাকা রাস্তা পেয়েছেন। এটিই তার পরম পাওনা।

মোংলা সমুদ্র বন্দরের কয়েক কিলোমিটার আগেই ডান পথে ঘুরে গেল গাড়ি। দু’পাশে শিল্পকারখানার বহুতল ভবন। তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা চলে গিয়েছে পশুর নদীতে। বানী শান্তা ফেরিঘাটে গাড়ি থামতেই দেখা গেল নতুন পল্টুন, বড় আকারের ফেরি ও যাত্রী ছাউনী। এখান থেকেই শুরু হল উন্নয়নের সঙ্গে পরিচিতি হওয়া। পশ্চিম প্রান্তে লাউডোব ফেরি ঘাট। পশুর নদীর তীর দিয়ে প্রসস্থ পিচঢালা পথ। এপথে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বামে মোড় নিয়ে নেমে যাওয়া রাস্তারটির নাম লাউডোব। এই পথে দাঁড়িয়েই ৮০ বছরের বৃদ্ধ সগর্বে বলছিলেন পাকা রাস্তা দেখার গল্প।




















