বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চায় না দিল্লী: রাজনাথ সিং
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন চায় না বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘কথা বলার ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক ও সংযত থাকা উচিত। নেটওয়ার্ক১৮ গ্রুপের প্রধান সম্পাদক রাহুল যোশীর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে রাজনাথ সিং শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এই পরামর্শ দেন এবং জানান, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক চায় না। তিনি বলেন, ভারত যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম, তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
ফার্স্টপোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে। সেই ঘটনায় পরে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং এর পর থেকে বহু জায়গায় তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ইউনূস সম্প্রতি পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার ও তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের কাছে বিতর্কিত একটি শিল্পকর্ম ও বই উপহার দিয়েছেন, যা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
উল্লেখিত বইটির শিরোনাম ছিল ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’— এটি গত আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ চলাকালীন এবং পরে ছাত্র ও তরুণদের আঁকা গ্রাফিতির সংগ্রহ বলে জানা গেছে। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, বইটিতে গ্রেটার বাংলাদেশ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে; যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কিছু রাজ্য, বিশেষ করে আসামকে ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী বইটিতে কথিত ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’ ও ‘বিজয়ের পর প্রশাসনিক কাঠামো’র বর্ণনা রয়েছে এবং তা নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা এবং সীমান্ত বিষয়ক ইস্যুগুলো তীব্র রাজনৈতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। রাজনাথ সিং নির্দেশ দিয়েছেন, কূটনৈতিক সঞ্জীবন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখা প্রত্যেক নেতার দায়িত্ব; তিনি আশা করেন উভয়পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা এড়িয়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হবে।




















