ডায়াবেটিসের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক
- আপডেট সময় : ১০:২০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে
চিনি বেশি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার সরাসরি কোনও যোগসূত্র নেই। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার ডায়াবেটিস হবার ক্ষেত্রে পরোক্ষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। চিনি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার যেমন সরাসরি সম্পর্ক নেই, তেমনি আপনি যদি বেশি মিষ্টি খেতে অভ্যস্ত হন, তাহলে মুটিয়ে যেতে পারেন।
প্রচুর চিনি খাওয়ার কারণে সরাসরি ডায়াবেটিস হয় না।
কিন্তু এটি স্থূলতা, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একারণে কোন ব্যক্তি সহজেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।
ডায়াবেটিস এমন একটি শারীরিক অবস্থা যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। একবার কেউ এ রোগে আক্রান্ত হলে জীবনভর বয়ে বেড়াতে হয়।
খাবার খাওয়ার পর শরীর সেই খাবারের শর্করাকে ভেঙে চিনিতে (গ্লুকোজ) রুপান্তরিত করে। এটি শরীরে শক্তির যোগান দেয়।
ডায়াবেটিস হলে শরীরের কোষগুলো আগে যে চিনিকে জ্বালানি বা শক্তিতে পরিণত করতো, সেই চিনি কোষের পরিবর্তে রক্তের মধ্যে জমা হতে থাকে এবং ডায়াবেটিস হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের দেয়া সংজ্ঞায় বলা হয়ে থাকে, ডায়াবেটিস দীর্ঘস্থায়ী হবার কারণে শরীর কার্যকরভাবে ইনসুলিন হরমোন তৈরি করতে পারে না। ডায়াবেটিস হলে কেবল চিনিই না, আরও অনেক বিপাকীয় সমস্যা তৈরি হয়।
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা
শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার, লাল বা বাদামী চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা পাউরুটি
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, ডিম, মাছ, মাংস, শিম ও অন্যান্য বীন, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, দই, ছানা ও পনির বিভিন্ন ধরনের তেল, মাখন, ঘি
আপনার দৈনিক কতটুকু খাবার ও পানীয় প্রয়োজন তা নির্ভর করে আপনার বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক পরিশ্রম এবং আপনি আপনার ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন তার ওপর।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অর্থ হল নির্দিষ্ট কিছু খাবার বেশি পরিমাণে এবং অন্যান্য খাবারগুলো কম পরিমাণে খাওয়া। কেবল এক ধরনের খাবার দেহের সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল হল বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য আনা যায় প্রতিদিন মূল পাঁচটি গ্রুপের প্রত্যেকটি থেকে বিভিন্ন খাবার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে।
ফল ও সবজি
ডায়াবেটিস থাকলে যে আপনি ফলমূল খেতে পারবেন না, তা কিন্তু নয়। ফলমূল ও শাকসবজিতে সাধারণত ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে; এগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও আঁশ তথা ফাইবারে পরিপূর্ণ। এগুলো প্রত্যেক বেলার খাবারে নতুন স্বাদ ও বৈচিত্র্য যোগ করে।
টাটকা, ফ্রোজেন, শুকানো কিংবা ক্যান ও টিনের বোতলে প্রক্রিয়াজাত যেকোন ধরনের ফলই খাওয়া যায়। শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের চাহিদা পুরণ করার জন্য যত প্রকারের রঙ-বেরঙের ফল খাবেন, ততই ভালো। ফলের জুস ও স্মুদি না খেলেই ভালো, কারণ এতে আঁশের পরিমাণ খুব কম থাকে।
কী পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি খাবেন?
দিনে অন্তত পাঁচ পরিবেশন ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এক পরিবেশন এক হাতের তালুতে যে পরিমাণ খাবার আঁটে।
ডায়াবেটিস রোগী কোন ফল ও শাকসবজি খেতে পারেন?
এক ফালি বাঙ্গি বা জাম্বুরা খেতে পারেন, সাথে একটু টক দই মিশিয়ে নিতে পারেন। যেকোনো ধরনের মৌসুমি ফলই খাওয়া ভালো। খেজুর, আলুবোখারা এগুলোও খাওয়া যায় খিচুড়ি, পাস্তা ও অন্যান্য রান্নায় গাজর, মটরশুঁটি, বরবটি ও শিম ব্যবহার করুন।
ভাতের সাথে মটরশুঁটি, মাংসে বেশি করে পেঁয়াজ বা একমুঠো পালংশাকও যোগ করা যেতে পারে। কম শর্করাযুক্ত শাকসবজির উৎস হিসেবে মাশরুম, শশা, পালংশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও লেটুস খাওয়া যেতে পারে বরই ও তরমুজ কম শর্করাযুক্ত ফলের ভালো উৎস। যারা দেশের বাইরে থাকেন তারা বিদেশি ফলের মধ্যে আভোকাডো, পীচ ও বিভিন্ন বেরি খেতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগী কোন প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন?
নাস্তায় ছোট এক মুঠ বাদাম খাওয়া যেতে পারে, প্রয়োজনে সালাদের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। মাংসের পরিবর্তে রান্নায় ডাল বা শিমের বীচি ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিম সেদ্ধ, পোচ বা ভাজি যেভাবে আপনার পছন্দ সেভাবেই খেতে পারেন।
কম তেল-মশলায় রান্না, গ্রিল ও বেক করা মাছ-মাংস খাওয়া যেতে পারে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, দুধ, পনির ও দই-এ প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, যা আপনার হাড়, দাঁত ও পেশীর গঠনের জন্য খুব উপকারী।
কিন্তু কিছু দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে চর্বি, বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই কম চর্বিযুক্ত বিকল্পগুলো বেছে নেওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে এসব বিকল্প যেন অতিরিক্ত চিনিমুক্ত হয় সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।




















