ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার তরমুজ, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন’র সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজীর ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেলবাজারে আগুন, ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়াল ঈদুল ফিতরে তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা: বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে সৌদির কঠোর হুঁশিয়ারি, যুদ্ধের ছায়ায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য ইসলামবিদ্বেষ রোধে বৈশ্বিক জিরো টলারেন্স নীতির ডাক বেইজিংয়ের ঈদের ছুটিতেও দায়িত্বে অবিচল প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ স্বস্তির ঈদযাত্রা: নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়ছেন লাখো মানুষ

ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার তরমুজ, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার স্বপ্ন, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফসলের স্বপ্নে ভরা কৃষকের মুখের আড়ালে লুকানো সংগ্রামের গল্প

ভোলার মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ হাজার তরমুজবোঝাই একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি যেন এক কৃষকের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে নিমিষেই ভেঙে দিয়েছে। ষাটোর্ধ কৃষক আবুল হাসান কেরাণী বহু কষ্টে, ঋণ করে এবং সীমিত সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে এই তরমুজগুলো চাষ করেছিলেন।

তার একটাই আশা ছিল, ঢাকায় নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করে সংসারের চাকা সচল করা, পাশাপাশি নেওয়া ঋণটিও শোধ করা। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি।

বুধবার রাতে হঠাৎ করে আসা ঝড়ের তীব্রতায় ভোলার ইলিশা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা জাহাজটি ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। কৃষক আবুল হাসানের চোখের সামনে তার বছরের পরিশ্রম, ঘাম আর আশা মিশে যায় মেঘনার পানিতে। তার ঈদ উপলক্ষে পরিকল্পিত আয়ও যেন ভেসে গেলো সেই অথৈ জলে।

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গ্রামীণ কৃষকের জীবনের অনিশ্চয়তার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। আবুল হাসানের মতো হাজারো কৃষক আজও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিংবা দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা না থাকায় তাদের স্বপ্নগুলো প্রায়ই ঝরে পড়ে অকালে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী কৃষকরা বহুদিন ধরে ইলিশারাজাপুর খালটি খননের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, খালটি খনন করা হলে এটি শুধু নৌকার নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং দুর্যোগকালীন সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার স্বপ্ন, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা
তরমুজ হাতে হাসোজ্জল কৃষক আবুল হাসান কেরানী-ফসলের স্বপ্নে ভরা এক মুখের আড়ালে লুকানো সংগ্রামের গল্প

সম্প্রতি তারা মানববন্ধনও করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

কৃষক নেতারা মনে করছেন, যদি সময়মতো এই ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হতো, তাহলে হয়তো এই ভয়াবহ ক্ষতি এড়ানো যেত। আবুল হাসানের মতো কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

তাদের ক্ষতির কিছুটা হলেও পূরণ করা না গেলে কৃষকদের মনোবল ভেঙে পড়বে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কৃষক শুধু উৎপাদক নন, তারা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। আবুল হাসানের কান্না যেন আর কোনো কৃষকের জীবনে না আসে, এই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার তরমুজ, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা

আপডেট সময় : ১০:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ফসলের স্বপ্নে ভরা কৃষকের মুখের আড়ালে লুকানো সংগ্রামের গল্প

ভোলার মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ হাজার তরমুজবোঝাই একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি যেন এক কৃষকের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে নিমিষেই ভেঙে দিয়েছে। ষাটোর্ধ কৃষক আবুল হাসান কেরাণী বহু কষ্টে, ঋণ করে এবং সীমিত সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে এই তরমুজগুলো চাষ করেছিলেন।

তার একটাই আশা ছিল, ঢাকায় নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করে সংসারের চাকা সচল করা, পাশাপাশি নেওয়া ঋণটিও শোধ করা। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি।

বুধবার রাতে হঠাৎ করে আসা ঝড়ের তীব্রতায় ভোলার ইলিশা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা জাহাজটি ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। কৃষক আবুল হাসানের চোখের সামনে তার বছরের পরিশ্রম, ঘাম আর আশা মিশে যায় মেঘনার পানিতে। তার ঈদ উপলক্ষে পরিকল্পিত আয়ও যেন ভেসে গেলো সেই অথৈ জলে।

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গ্রামীণ কৃষকের জীবনের অনিশ্চয়তার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। আবুল হাসানের মতো হাজারো কৃষক আজও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিংবা দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা না থাকায় তাদের স্বপ্নগুলো প্রায়ই ঝরে পড়ে অকালে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী কৃষকরা বহুদিন ধরে ইলিশারাজাপুর খালটি খননের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, খালটি খনন করা হলে এটি শুধু নৌকার নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং দুর্যোগকালীন সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনায় ডুবলো ১৯ লাখ টাকার স্বপ্ন, চোখের জলে ভেসে গেল আবুল হাসানের ঈদ-আশা
তরমুজ হাতে হাসোজ্জল কৃষক আবুল হাসান কেরানী-ফসলের স্বপ্নে ভরা এক মুখের আড়ালে লুকানো সংগ্রামের গল্প

সম্প্রতি তারা মানববন্ধনও করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

কৃষক নেতারা মনে করছেন, যদি সময়মতো এই ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হতো, তাহলে হয়তো এই ভয়াবহ ক্ষতি এড়ানো যেত। আবুল হাসানের মতো কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

তাদের ক্ষতির কিছুটা হলেও পূরণ করা না গেলে কৃষকদের মনোবল ভেঙে পড়বে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কৃষক শুধু উৎপাদক নন, তারা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। আবুল হাসানের কান্না যেন আর কোনো কৃষকের জীবনে না আসে, এই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।