বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন, সাহসী ও প্রভাবশালী নেতা, যাঁর নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেশকে দীর্ঘ সময় দিশা দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতি এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মনোনীত যশোর–শার্শা-১ আসনের প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১টায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সামনে বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুজ্জামান লিটন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপার্সন নন, তিনি ছিলেন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ষড়যন্ত্র, দমন-পীড়ন ও সংকট মোকাবিলা করেও তিনি কখনো আপস করেননি। জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবকতুল্য রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর যৌথ আয়োজনে এবং ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহের উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বেনাপোল ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসহাক মিয়া, বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর সভাপতি আসাদুল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবার রহমান, সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী, ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. লিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।