কিংবদন্তির দু’শো বছরের বাড়িটি রক্ষায় পুননির্মাণে ভরতের আশ্বাস
- আপডেট সময় : ০১:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি মেরামতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস ভারতের, বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক হিসেবে ভবনটির ঐতিহাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে, ধ্বংসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং সাহিত্যের জাদুঘর এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে এর মেরামত ও পুনর্র্নিমাণের বিকল্পগুলি পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয় হবে। ভারত সরকার এই উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় সড়কে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের পারিবারিক ‘দুই শতাধিক বছরের পুরনো’ একতলা বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেছে জেলার শিশু একাডেমি। বাড়ি ভাঙার খবর সামনে আসার পর ঐতিহ্যবাহী এ বাড়ি সংস্কার ও পুনর্নিমাণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ খ্যাতনামা সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িটি ভাঙার খবরে ভারত সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি মেরামত ও পুনর্র্নিমাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

১৯৮৯ সাল থেকে শিশু একাডেমি ভবনটি ব্যবহার শুরু করে। পরিত্যক্ত ও জীর্ণ ভবনটি একাডেমি কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালের পর আর ব্যবহার করেনি। সেই থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাড়িটির সামনে একটি ছোট মাঠও রয়েছে।
হরিকিশোর রায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মসূয়ার জমিদার। তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ। তিনি থাকতেন ময়মনসিংহে।
ময়মনসিংহে ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙ্গার খবরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের ময়মনসিংহে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের তাঁর দাদা এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর পৈতৃক সম্পত্তি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন সম্পত্তিটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক হিসেবে ভবনটির ঐতিহাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে, ধ্বংসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং সাহিত্যের জাদুঘর এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে এর মেরামত ও পুনর্র্নিমাণের বিকল্পগুলি পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয় হবে। ভারত সরকার এই উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের এ বাড়ি ধ্বংসের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন সম্পত্তিটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভবনটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবনটি বাংলার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এমন প্রেক্ষাপটে এটি ভাঙার কাজ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে একে ‘সাহিত্য জাদুঘরে’ রূপান্তর করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে, যা ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সংস্কৃতির প্রতীক হতে পারে।




















