ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দখল-ভাঙচুরে ছাড় নয়, জাইমার নিয়োগেও সম্পৃক্ততা নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয় সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর উদ্যোগে স্বস্তির বার্তা হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ

কলকাতায় এমপি হত্যার প্রধান কিলার কে এই শিমুল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অপরাধে হাত পাকায় চরমপন্থি দলে ভিড়ে

কলকাতায় বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম হত্যার পর বেড়িয়ে আসছে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনের প্রধান পান্ডা শিমুল ভূঁইয়ার নাম এরই মধ্যে আলোচনায়। তিনিই এমপিকে হত্যার মিশনে নেতৃত্ব দেন।

একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার পর সর্বশেষ তার নাম জড়ালো কলকাতায় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। ইতিমধ্যে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটকা পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর এই খুনি। সবার প্রশ্ন, কে এই শিমুল ভূঁইয়া।

শিমুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ দুইটি হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরকসহ ফুলতলা, যশোর সদর থানা ও যশোরের অভয়নগর থানায় আটটি মামলার খোঁজ পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর কী কী মামলা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তার প্রকৃত নাম মাহমুদ হাসান ভূঁইয়া (৫৪) হলেও ফুলতলা উপজেলায় শিমুল ভূঁইয়া নামে পরিচিত। বিভিন্ন অঞ্চলে সৈয়দ আমানুল্লাহ, আমানুল্লাহ সাঈদ, শিহাব, আবুল ফজল, ফজল মোল্লা ও ফজলসহ বিভিন্ন ছদ্মনামে পরিচিত। এক কথায় বহুরূপি চরিত্র শিমুল ভূঁইয়ার।

শিমুল ভূঁইয়া ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভগ্নিপতি মোফাখখারুলের হাত ধরে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এরশাদ আমলে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান হোসেনকে সকাল ১০টার দিকে শোলগাতিয়া বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শিমুল ভূঁইয়ার নাম প্রথম আলোচনায় আসে। এরপর একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেনকে হত্যা করে সে। ফুলতলা উপজেলার পার্শ্ববর্তী যশোরের অভয়নগর উপজেলার গণেশ ও ইমান আলীকে হত্যা করে। এ দুটি মামলায় শিমুল ভূঁইয়া ওরফে সৈয়দ আমানুল্লাহ দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।

সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফুলতলার দামোদর গ্রামের সরদার ও ভূঁইয়া পরিবারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস কক্ষের মধ্যে শিমুল ভূঁইয়া দামোদর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সরদার আবুল কাশেমকে গুলি করে হত্যা করে।

এরপর ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট তার বড় ছেলে একই ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদলকে বাড়ির সামনের গুলি করে হত্যা করা হয়।

সরদার পরিবারের অভিযোগ, দুটি হত্যাকাণ্ডে শিমুল ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি জড়িত। এরমধ্যে আবুল কাশেম হত্যা মামলায় শিমুল, শিপলু ও মমিনুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

দুটি মামলার বাদী ছিলেন সরদার আবুল কাশেমের আরেক ছেলে ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সে সময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু। পিতা ও ভাইয়ের মামলা নিয়ে আদালতে তদারকি করছিলেন মিঠু। এ নিয়ে তার ওপর শিমুল ভুঁইয়াসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালায়। তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এ অবস্থায় ২০১৭ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দামোদর গ্রামের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করা হয় সরদার আলাউদ্দিন মিঠুকে। এ সময় তার শ্বশুর সৈয়দ সেলিম ও দেহরক্ষী নওশের গাজী গুলিবিদ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নওশের গাজীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড তার নেশায় পরিণত হয়। জড়িত থাকলেও সে থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। শিমুলের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য। গত নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অভিযোগ রয়েছে, শিমুলের ভয়ে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে সাহস করেনি কেউ।

প্রায় দুই যুগ ধরে বাড়িছাড়া শিমুল ভূঁইয়া। হত্যাকাণ্ডসহ শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে ছোট ভাই দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ মোহাম্মদ ভূঁইয়া শিপলু ও বড় ভাই হানিফ মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে লাকি ভূঁঁইয়ার ছেলে তানভীর ভূঁইয়ার। একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ দুই যুগের ওপর বাড়িছাড়া শিমুল ভূঁইয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :