ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকার ব্যস্ত শাহবাগ অবরোধ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ এলাকায় এসে পৌঁছালে মোড়টি সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
এর আগে সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এক ঘোষণায় শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া–মোনাজাত ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানানো হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান তিনি। ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ওসমান হাদি পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিতেন এবং তার যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
হত্যাকাণ্ডের আগেই প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন হাদি। গত নভেম্বর মাসে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, দেশি–বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে ফোনকল ও বার্তার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। তবে সব হুমকির পরও ইনসাফের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানান তিনি।
মৃত্যুর পর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে আসে। তাদের ভারত পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়ালেও গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।




















