ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ, উত্তাল ইরানের সব প্রদেশ
- আপডেট সময় : ০১:৩১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পরও আন্দোলনের বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৩১টি প্রদেশেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার রাতে ভাষণ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করলে কেউ দায়মুক্তি পাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় খামেনেই মন্তব্য করেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, অহংকার ও দমননীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সব শাসনব্যবস্থারই শেষ পর্যন্ত পতন ঘটেছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘গুরুতর বিপদের মুখে’ রয়েছে এবং প্রয়োজনে দেশটিতে আবারও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার এই বক্তব্যের পরই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের পরও বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজধানী তেহরানে অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত ২৭ ডিসেম্বর। সেদিন তেহরানে দোকানিরা লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।
এরই মধ্যে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি গণআন্দোলনে নামার আহ্বান জানান, যার পরপরই ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে নারী স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান আন্দোলনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
অন্যদিকে, সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণে আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং তাঁর নিজস্ব নৈতিকতাই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখে। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা কিংবা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের মতো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তের একমাত্র সীমা হলো তাঁর নিজস্ব বিবেচনা।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা মিলিয়ে দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















