ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক

আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ

 

যে জন প্রেমের ভাব জানেনা
তার সঙ্গে নাই লেনা দেনা,
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয়
নকল সোনা,
সে জন সোনা চেনেনা।

গোঁসাই শব্দের অর্থ আধ্যাত্মিক, গুরু বা প্রভু হিসাবে মান্য করে বাউল সম্প্রদায়। ভাবজগতের বাসিন্দারা একে অপরের সঙ্গে বিনিসূতোয় গাঁথা মালার মতো আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছেন।

আবার ভাষাবিদ দের মতে বাউল শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ব্যাকুল বা বাতুল থেকে। এর অর্থ পাগল বা উদাসী মানুষ। মনের মানুষের সন্ধানে তাঁরা সদাই বিভোর।

“যে ডাকে চাঁদ গৌর বলে
ওগো ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে,
ওরে দ্বিজ ভূষণ চাঁদ বলে
চরন ছেড়ে দেবো না না না ছেড়ে দেবো না।
তোমায় বক্ষ মাঝে,
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌর আর পাবো না”

আসলে তিনি কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকার সন্ধান করেন না করেন দেহ হীন কামনা হীন এক আত্মার।

আর তাই গান
“তোমার ভেতর বসত করে কয়জনা
ও মন জান না..”

বাউলের উদ্ভব কাল সম্পর্কে সঠিক করে কিছু বলা সম্ভব নয়।গবেষক সংকলক ড. উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মনে করেন পাল যুগের চারশো বছর ধরে বাউল ধর্ম বাংলাদেশের প্রধান ও প্রকাশ্য ধর্ম ছিল।সেই অর্থে আনুমানিক দশম শতাব্দীতে বাউল ধর্মের উদ্ভব ঘটে যা ছিল চর্যাগীতির সময় কাল।সময় অতিক্রান্ত হতে হতে টা শ্রেণী বিশেষের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়।সপ্তদশ শতকে পুনরায় বাউলের পূর্ণ আত্মপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।

১৭০০ শতকের কাছাকাছি হিন্দু মুসলমান ,ফকির বৈষ্ণবের মিলিত ধর্মরূপে সারা বাংলায় বাউল সঙ্গীত ও ধর্মের প্রসার ঘটে।তবে বাউল ধর্মের কথা গান সবই মুখে মুখে গুরু শিষ্য পরম্পরায় বাহিত হওয়ায় এর কোনো লিখিত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

বাউল শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় পাওয়া যায় মালাধর বসুর ‘ শ্রীকৃষ্ণবিজয় ‘ বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্য ভাগবৎ’ ,কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ‘ কাব্যের মধ্য লীলায় একটা পঙক্তিতে (২১/১২৪) শ্রীচৈতন্যদেব প্রসঙ্গক্রমে

বলছেন –
” আমি তো বাউল, আন করতে আন করি।
কৃষ্ণের মাধুর্য্য স্রোতে আমি যাই বহি ।”
কিন্তু বর্তমান সমাজের প্রেক্ষিতে বাউল দর্শন তত্ত্ব বোঝা কতটা জরুরী?আসলে এ রকম সাধনা যা দিয়ে নিজেকে চেনা সম্ভব।নিজেকে না চিনলে আমরা অপরকে চিনব কিভাবে?তার সঙ্গে এই দর্শন যেন পথ দেখায়

“ভুলি ভেদাভেদ জ্ঞান
হও সব আগুয়ান
হবে জয় “-

এর মধ্য দিয়ে যে মিলনের সুর বহে যায় তাতে জাত – পাত, ধর্ম – সম্প্রদায়,উচ্চ নীচ, ধনী – দরিদ্র মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।মানুষের ভিতরের এই অমৃতময় মহা মানুষটিকে চয়ন করতেই হুগলী জেলার অন্তর্গত আরামবাগে আয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব ও বাউল ফকির উৎসব।এসেছেন দেশ বিদেশের বহু উজ্জ্বল মুখ।প্রকাশ হয়েছে
‘ গোঁসাই কথা ‘ নামে গ্রন্থ খানি।

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, শেখ মো: শামীম

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব

আপডেট সময় : ১০:২৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ

 

যে জন প্রেমের ভাব জানেনা
তার সঙ্গে নাই লেনা দেনা,
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয়
নকল সোনা,
সে জন সোনা চেনেনা।

গোঁসাই শব্দের অর্থ আধ্যাত্মিক, গুরু বা প্রভু হিসাবে মান্য করে বাউল সম্প্রদায়। ভাবজগতের বাসিন্দারা একে অপরের সঙ্গে বিনিসূতোয় গাঁথা মালার মতো আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছেন।

আবার ভাষাবিদ দের মতে বাউল শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ব্যাকুল বা বাতুল থেকে। এর অর্থ পাগল বা উদাসী মানুষ। মনের মানুষের সন্ধানে তাঁরা সদাই বিভোর।

“যে ডাকে চাঁদ গৌর বলে
ওগো ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে,
ওরে দ্বিজ ভূষণ চাঁদ বলে
চরন ছেড়ে দেবো না না না ছেড়ে দেবো না।
তোমায় বক্ষ মাঝে,
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌর আর পাবো না”

আসলে তিনি কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকার সন্ধান করেন না করেন দেহ হীন কামনা হীন এক আত্মার।

আর তাই গান
“তোমার ভেতর বসত করে কয়জনা
ও মন জান না..”

বাউলের উদ্ভব কাল সম্পর্কে সঠিক করে কিছু বলা সম্ভব নয়।গবেষক সংকলক ড. উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মনে করেন পাল যুগের চারশো বছর ধরে বাউল ধর্ম বাংলাদেশের প্রধান ও প্রকাশ্য ধর্ম ছিল।সেই অর্থে আনুমানিক দশম শতাব্দীতে বাউল ধর্মের উদ্ভব ঘটে যা ছিল চর্যাগীতির সময় কাল।সময় অতিক্রান্ত হতে হতে টা শ্রেণী বিশেষের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়।সপ্তদশ শতকে পুনরায় বাউলের পূর্ণ আত্মপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।

১৭০০ শতকের কাছাকাছি হিন্দু মুসলমান ,ফকির বৈষ্ণবের মিলিত ধর্মরূপে সারা বাংলায় বাউল সঙ্গীত ও ধর্মের প্রসার ঘটে।তবে বাউল ধর্মের কথা গান সবই মুখে মুখে গুরু শিষ্য পরম্পরায় বাহিত হওয়ায় এর কোনো লিখিত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

বাউল শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় পাওয়া যায় মালাধর বসুর ‘ শ্রীকৃষ্ণবিজয় ‘ বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্য ভাগবৎ’ ,কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ‘ কাব্যের মধ্য লীলায় একটা পঙক্তিতে (২১/১২৪) শ্রীচৈতন্যদেব প্রসঙ্গক্রমে

বলছেন –
” আমি তো বাউল, আন করতে আন করি।
কৃষ্ণের মাধুর্য্য স্রোতে আমি যাই বহি ।”
কিন্তু বর্তমান সমাজের প্রেক্ষিতে বাউল দর্শন তত্ত্ব বোঝা কতটা জরুরী?আসলে এ রকম সাধনা যা দিয়ে নিজেকে চেনা সম্ভব।নিজেকে না চিনলে আমরা অপরকে চিনব কিভাবে?তার সঙ্গে এই দর্শন যেন পথ দেখায়

“ভুলি ভেদাভেদ জ্ঞান
হও সব আগুয়ান
হবে জয় “-

এর মধ্য দিয়ে যে মিলনের সুর বহে যায় তাতে জাত – পাত, ধর্ম – সম্প্রদায়,উচ্চ নীচ, ধনী – দরিদ্র মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।মানুষের ভিতরের এই অমৃতময় মহা মানুষটিকে চয়ন করতেই হুগলী জেলার অন্তর্গত আরামবাগে আয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব ও বাউল ফকির উৎসব।এসেছেন দেশ বিদেশের বহু উজ্জ্বল মুখ।প্রকাশ হয়েছে
‘ গোঁসাই কথা ‘ নামে গ্রন্থ খানি।

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, শেখ মো: শামীম