অনুমোদন পেলো বুয়েট উদ্ভাবিত ‘অক্সিজেট’
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ ২৩২ বার পড়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
“তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদেরও হাসপাতালের সাধারণ বেডে রেখেই উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন-সহায়তা দেওয়া যায় এ যন্ত্রের মাধ্যমে”
অবশেষে বুয়েটের উদ্ভাবিত ‘অক্সিজেট’ ব্যবহারের অনুমোদন দিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বলা হয়েছে এটি সীমিত আকারে ব্যবহার করা যাবে। বৃহস্পতিবার ডিজিডিএর উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
করোনার প্রাদুর্ভাবের উর্ধমুখি সংক্রমণে অক্সিজের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। চাহিদার বিপরীতে যোগান দিতে আমদানি বেড়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে ভারত থেকে দু’দফায় ৪০ মেট্রিক টন মেডিকেল অক্সিজেন নিয়ে দু’টো অক্সিজেন এক্সপ্রেস বাংলাদেশে এসেছে।
অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত ‘অক্সিজেট’ নামের যন্ত্রটির উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ‘সীমিত’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটির ২০০ ইউনিট উৎপাদন করে তা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বড় আকারে উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। তীব্র শ্বাসকষ্টে
ভোগা রোগীদেরও হাসপাতালের সাধারণ বেডে রেখেই উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন-সহায়তা দেওয়া যায় এ যন্ত্রের মাধ্যমে।
মো. সালাউদ্দিন বলেন, অনেকটা ট্রায়ালের অংশ হিসেবে জরুরি ব্যবহারের জন্য স্বল্পসংখ্যক অক্সিজেটের (২০০ ইউনিট) সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অক্সিজেটের পোস্ট মার্কেটিং
ভিজিল্যান্স (বিপণন-পরবর্তী সতর্কতা) করতে হবে। প্রত্যেক রোগীর তথ্য রাখতে হবে। দেখতে হবে যে এতে রোগীর উপকার হচ্ছে কি না। পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না।
চিকিৎসা ও উদ্ভাবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডে রোগীকে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়। তার বেশি অক্সিজেনের দরকার হলে ‘হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা’ লাগে কিংবা রোগীকে আইসিইউতে নিতে হয়।
কিন্তু বিশেষ এই ক্যানুলা ও আইসিইউ উভয়ের সংকট থাকায় অনেক রোগীকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেটের ব্যবহার বেশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ বেডে রেখেই রোগীকে ৬০ লিটার পর্যন্ত উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের মে-জুন মাসের দিকে অক্সিজেট নিয়ে কাজ শুরু করেন বুয়েটের একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়টির জৈব চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তওফিক হাসান
তার শিক্ষার্থী মীমনুর রশিদ, ফারহান মুহিব, কায়সার আহমেদ ও কাওসার আহমে এই চারজনকে নিয়ে কাজটি শুরু করেন।
পরে জৈব চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তারিক আরাফাত, সহকারী অধ্যাপক জাহিদ ফেরদৌস ও সাঈদুর রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা করেন।




















