সূর্যমুখীর হলুদ হাসিতে ভরেছে টাঙ্গাইলের মাঠ, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ভোরের প্রথম সূর্যের আলো পড়তেই সূর্যমুখী ক্ষেতগুলো সোনালি আভায় ঝলমল করে ওঠে। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কাকুয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সূর্যমুখীর ক্ষেত যেন এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। সবুজ পাতার ফাঁক গলে মাথা উঁচু করে থাকা ফুলগুলো সূর্যের দিকে তাকিয়ে নতুন দিনের অভিবাদন জানায়।
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তীর্ণ জমিতে এখন দোল খাচ্ছে সূর্যমুখীর হলুদ ফুল। সোনালি রঙে ভরা এসব ক্ষেত যেন নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে কৃষকদের। বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় মুখে হাসি ফুটেছে চাষিদের। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সূর্যমুখী চাষে ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুলে ভরা এসব বাগানে প্রতিদিনই দেখা যায় প্রজাপতি ও মৌমাছির ব্যস্ত আনাগোনা। মধু সংগ্রহে তাদের এই উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত। নয়নজুড়ানো এই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ সূর্যমুখী বাগানে এসে ছবি ও সেলফি তুলে মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।
কৃষকেরা বলছেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ তুলনামূলক কম, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা বেশি। সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে অনেক কৃষকই এবার নতুন করে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মো. রফিকুল বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে ভালো ফুল এসেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আশা করছি ভালো ফলন পাব।
কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছর টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১৭৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর, বাসাইলে ৪৬ হেক্টর, কালিহাতীতে ৮ হেক্টর, ঘাটাইলে ১০ হেক্টর, নাগরপুরে ১০ হেক্টর, মির্জাপুরে ১০ হেক্টর, মধুপুরে ১৪ হেক্টর, ভূঞাপুরে ৫ হেক্টর, গোপালপুরে ৫ হেক্টর, সখীপুরে ৩ হেক্টর, দেলদুয়ারে ২০ হেক্টর এবং ধনবাড়ীতে ২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, সূর্যমুখী চাষ দিন দিন বাড়ছে। একদিকে যেমন ভোজ্যতেল উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষেতের সৌন্দর্যও মানুষকে আকর্ষণ করছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবেন। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং পুষ্টিকর তেলের চাহিদা মেটাতে কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।


















