মহাসড়ক উন্নয়নে দ্রুত সুখবরের আশ্বাস, গোমা সেতু উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
সড়ক, রেলপথ, নৌপরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক বর্তমানে দুই লেনের হওয়ায় ভাঙা থেকে বরিশাল অংশটি আরও প্রশস্ত করা জরুরি।
সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করেছে এবং তিনি নিজেও সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। খুব দ্রুত কীভাবে কাজ শুরু করা যায় সে বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং বরিশালবাসী শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বরিশালের বাকেরগঞ্জে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া একটি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত।
ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিযোগ আসেনি, ভাড়াও বাড়েনি। মানুষ স্বস্তিতে যাতায়াত করছে এবং সড়কে তীব্র যানজট বা বিশৃঙ্খলা নেই।
অল্প কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে, এ বিশাল চাপ সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া প্রস্তুতির ফলে যাত্রীরা স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গোমা সেতু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ২৮৩ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি একটি যুগান্তকারী অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বরিশাল–৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ প্রায় ৯ বছর পর সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সেতুটি চালু হওয়ায় বরিশালের বাকেরগঞ্জের সঙ্গে পটুয়াখালীর দুমকির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এর ফলে দুই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের ভোগান্তি কমেছে এবং যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা হ্রাস পাবে।
প্রকল্পটি ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি হিসেবে অনুমোদিত হয় এবং ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে শুরুতেই সেতুর উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি জানালে নকশা পরিবর্তন করতে হয়।
নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা ৭ দশমিক ৬২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয় এবং নতুন নকশায় স্টিল ট্রাস স্প্যান সংযোজন করা হয়।
নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ফলে ব্যয়ও বেড়ে সংশোধিত প্রকল্পে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।



















