মনোনয়ন দ্বন্দ্বে রেলপথে নাশকতা, রেললাইন খুলে ফেলায় অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক মনোনয়ন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার ভয়াবহ রূপ দেখা গেল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-১০ এ বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতায় দুর্বৃত্তরা প্রায় ২০ ফুট রেললাইন খুলে ফেলে ঢাকাগামী আন্তনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত করেছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে, চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
রেলওয়ে ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও রেলস্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সালটিয়া মাঠখোলা এলাকায় তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রেললাইনের একটি অংশের নাট খুলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সামনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

গত তিন দিন ধরে গফরগাঁওয়ে রেললাইন ও সড়ককে ঘিরে ধারাবাহিক সহিংসতা চলছে। এর আগে দফায় দফায় রেললাইনে আগুন দেওয়া হয়। সর্বশেষ এই নাশকতার ঘটনায় জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে বিএনপি ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে ময়মনসিংহ-১০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে। তবে এ আসনে আরও পাঁচজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই এ বি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের সমর্থকেরা বিক্ষোভে নামে। দলীয় প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন দেওয়া হয়।

শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এবং রোববার দিনভর গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও টানা দুই দিন সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
গফরগাঁও রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার হানিফ আলী বলেন, মনোনয়ন নিয়ে যারা আন্দোলন করছে, তারা সাধারণত সকাল নয়টার পর মাঠে নামেন। কিন্তু গভীর রাতে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে প্রায় ২০ ফুট রেললাইন খুলে ফেলেছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন রওনা হয়েছে। উদ্ধার ও মেরামত শেষে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হবে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ‘রেললাইনের নাট খুলে সরিয়ে ফেলার কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। এটি স্পষ্টতই নাশকতা। কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
রাজনৈতিক মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রেলপথে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ট্রেন লাইনচ্যুতের মতো ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে—এমন মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই প্রবণতা বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।




















