ভোটের কালি শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
ইমাম–মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবায় যুক্তদের জন্য সম্মানি কার্যক্রম শুরু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর কদমে কাজ শুরু করেছে সরকার। ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও খ্রিস্টান যাজকদের জন্য সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের পর থেকেই কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে তারা সঠিক দিকনির্দেশনা দেন এবং নৈতিকতার চর্চা জাগ্রত রাখতে কাজ করেন। তাই তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের জন্য ইতোমধ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানরা এ কার্ড পাবেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড” চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের নতুন উদ্যোগের আওতায় ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের জন্য নিয়মিত সম্মানি প্রদান করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। সেখান থেকে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। খ্রিস্টান চার্চের ক্ষেত্রেও ৮ হাজার টাকা সম্মানি বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত বোনাসও দেওয়া হবে। মসজিদের কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে বছরে দুইবার বোনাস দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মরতরা ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন।
তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সরকারি বা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশের উপাসনালয়ে চালু করা হবে। সম্মানির অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
সরকারের মতে, ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত মানুষের জন্য এ সম্মানি কার্যক্রম একটি মানবিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শুধু তাদের আর্থিক সহায়তাই নিশ্চিত হবে না, বরং দেশের সব ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
Top of Form
Bottom of Form


















