ভারতের দাদাগিরির দিন শেষ : মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৫৩ বার পড়া হয়েছে
ভারত উদ্দেশ্যে করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন, দাদাগিরি দিন শেষ। যদি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান তাহলে আগে তিস্তার পানি দিন। ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে প্রথমে তিস্তার পানি দিতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে। তাহলে বন্ধুত্ব হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ভারতকে স্পষ্ট করে বলুন তিস্তার ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।
তিস্তা নদীরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ তিস্তা পাড়ে সমবেত হয়। হাজারো মানুষের স্লোগানে স্লোগে মপ্রকম্পিত হয়ে ওঠে তিস্তার আকাশ-বাতাস।
বাংলাদেশের উত্তরজনপদের লালমনিরহাট জেলা। বহনমান তিস্তার বুকজুড়ে ধু ধু বালুচর। কৃষক সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারছেনা। শুকনো মৌসুমের তিস্তার সঙ্গে বর্ষামৌসুমের বিস্তার অমিল। বর্ষায় তিস্তার দুকুল ছাপিয়ে তিস্তাপারের জনপদ ভাসিয়ে নেয়। অথচ চুক্তি অনুযায়ী পানি দিচ্ছে না ভারত। এটাকে স্থানীয়রা ভারতের পানি আগ্রাসন বলে থাকে।
এমন অবস্থায় ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচির ডাক দেয় তিস্তা বাঁচাই আন্দোলন। যার প্রধান সমন্বয় হচ্ছেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হক দুলু। সোমবার লালমনিরহাটে তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে তিস্তা পাড়ে ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার অবস্থান নিয়ে দু’দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসুচিতে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে ভারত পানি দেয় না, অন্যদিকে আমাদের শত্রুকে আশ্রয় দেয়। দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে রাজার হালে রেখেছে। ওখান থেকে বসে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুকুম দিচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় এল তখন সবাই ভাবল ভারতের বন্ধু এবার মনে হয় পানি আনতে পারবে। ১৫ বছরে তারা তিস্তার এক ফোঁটা পানিও আনতে পারিনি। ৫৪টি অভিন্ন নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিয়ে একতরফা পানি উত্তোলন করেছে। তারা ভারতের কাছে দেশ বেচে দিয়েছিল। মির্জা ফখরুল বলেছেন, বাংলার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে ভারতকে প্রথমে তিস্তার পানি দিতে হবে, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে। আর দাদাগিরি চলবে না। তাহলে বন্ধুত্ব হতে পারে।




















