ব্রিটিশ চিকিৎসকদের আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে কেন?
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে
‘মূলত কাজের চাপ, বুলিং, হেনস্তা, টানা কাজ, ঘুম বঞ্চনা, অবকাঠামোর অভাব এবং অর্থস্বল্পতার মতো নানা কারণে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা আত্মহননের পথে হাঁটছেন’
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
পরিসংখ্যান বলছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের আত্মহত্যার হার দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি! বিশেষ করে নারী ও জুনিয়র চিকিৎসকরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক জাতীয় পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত (চিকিৎসক, নার্স, থেরাপিস্ট, ডেন্টিস্ট ও মিডওয়াইফ) ৭২ জন আত্মহত্যা করেছেন। সেই হিসেবে প্রতি সপ্তাহে একজন করে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট মানুষ আত্মহননের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
নার্সদের মধ্যে এই আত্মহত্যা প্রবণতা আরো বাড়ছে। ২০২২ সালে ব্রিটেনে ৩৬০ জনের বেশি নার্স আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মূলত কাজের চাপ, বুলিং, হেনস্তা, টানা কাজ, ঘুম বঞ্চনা, অবকাঠামোর অভাব এবং অর্থস্বল্পতার মতো নানা কারণে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা আত্মহননের পথে হাঁটছেন।
ব্রিটিশ সরকারের অর্থ সংকোচন নীতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে চিকিৎসাখাতে। রোগীর চাপ দ্বিগুণ হলেও বাড়েনি চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা। বর্তমান কর্মীদের ওপরই বেশি চাপ পড়ছে।
করোনাকালে সেই সঙ্কট ও মানসিক চাপ আরো বেড়েছে। সেই তুলনায় চিকিৎসাখাতে বরাদ্দও বাড়ায়নি ব্রিটিশ সরকার।
মনোবিজ্ঞানী কেভিন টিও (যিনি ব্রিটিশ চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন) বলছেন, যেখানে জরুরি সেবা দেয়া হয় এবং হাসপাতালের বিছানা ভর্তি রোগী, সেখানে আমরা চিকিৎসাকর্মীদের বেশি মানসিক অশান্তিতে ভুগতে দেখেছি।
কেভিনের সহ লেখক গেইল কিনম্যান বলেছে, সেখানে কয়েকজন মাত্র চিকিৎসক রয়েছে। চিকিৎসা উপকরণ ও জনশক্তিও কম। কিন্তু চাপের মধ্যেও তাদের প্রত্যাশামাফিক কাজটা করে যেতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাঁধে রোগীদের জন্য আত্মত্যাগ ও আপন জীবন উজাড় করার ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়।
আর এই চাপই চিকিৎসাকর্মীদের খুব কম বয়সে বেশি শক্তি ব্যয়ের পথে ঠেলে দেয়। অথচ যা তাদের জীবনে অনেক পরে ঘটার কথা। সূত্র আল জাজিরা




















