বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি?
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও বরফ গলেনি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা-উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিসিবি বারবার তাদের অবস্থান অটল রেখেছে। অন্যদিকে আইসিসিও তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি নয়; ভেন্যু পরিবর্তন করতে তারা একেবারেই অনীহা দেখিয়েছে। এই অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল, কিন্তু কোনোরকম চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি।
এখন যা বোঝা যাচ্ছে, আজ বিকেলে আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, আইসিসি বোর্ডে বাংলাদেশের পক্ষে পিসিবির সমর্থনও তুলে ধরা হবে। আইসিসির বোর্ড হচ্ছে সংস্থার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ, যেখানে এককভাবে কোনো সদস্য দেশের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বোর্ড সদস্যদের মতামত-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানে পিসিবি ছাড়াও অন্যান্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যরাও বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানাতে পারেন।
বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ায়, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হলে বোর্ড সভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তাছাড়া নিরাপত্তা-শঙ্কার কারণে বাংলাদেশের দাবি অযৌক্তিকও নয়। শুধু মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা নয়, বরং ধারণা করা হচ্ছে—বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেকের ভারতীয় অবস্থান বর্তমানে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এসবই বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলার বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো বা সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রদর্শনের লক্ষ্যে আইসিসি বোর্ড সভা ডেকেছে। সভার আগে আইসিসির কাছে পিসিবির সমর্থনসূচক চিঠিটিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এতে আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) উভয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, আইসিসির ম্যানেজমেন্ট যদি এককভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করতো, তাহলে আজকের বোর্ড সভা ডাকার প্রয়োজনই পড়ত না।
এছাড়া গ্রুপ বদলের যে প্রস্তাব ইতিমধ্যে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে আলোচনায় এসেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের মতামতও প্রয়োজন। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দুই গ্রুপের দলগুলোর সম্মতি জরুরি। সিদ্ধান্ত যাই হোক, এই সভার পর আইসিসি অন্তত বলতে পারবে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা করেছে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


















