ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

পবিত্র কোরআন হাতে জোহরান মামদানির শপথ, নিউইয়র্কে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কোরআন হাতে জোহরান মামদানির শপথ, নিউইয়র্কে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী মুহূর্তের সূচনা হলো নতুন বছরের প্রথম প্রহরে। নগরীর ১১১তম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং আফ্রিকা-বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে জোহরান মামদানি পবিত্র কোরআনের তিনটি কপি নির্বাচন করেন। মধ্যরাতের এই সীমিত পরিসরের আয়োজনে তার হাতে ছিল দুটি কপি—একটি তার দাদার ব্যবহৃত এবং অন্যটি আঠারো শতকের শেষভাগে মুদ্রিত একটি ঐতিহাসিক ক্ষুদ্রাকৃতির পকেট কোরআন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার থেকে সংগৃহীত এই কোরআনটি বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ কপি নির্বাচনে তার স্ত্রী রমা দুওয়াজিকে একজন গবেষক সহায়তা করেন।

উল্লেখযোগ্য যে, নিউইয়র্কের অধিকাংশ পূর্ববর্তী মেয়র বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নিলেও জোহরান মামদানি তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন—যা নগরটির বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে।

শপথ গ্রহণের স্থান নির্বাচনেও ছিল গভীর প্রতীকী তাৎপর্য। ১৯০৪ সালে নির্মিত এবং ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা সাবওয়ে স্টেশনটিকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অবদান ও শহরের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস শপথ বাক্য পাঠ করান; এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা জোহরান মামদানি শুরু থেকেই নিজের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নিয়মিত মসজিদে যাতায়াতসহ সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বিশেষত দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেন।

মধ্যরাতের এই আনুষ্ঠানিকতার পর আজ দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহত্তর গণ-শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে পুনরায় শপথ পাঠ করাবেন। পরবর্তীতে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় আয়োজিত উৎসবের মধ্য দিয়ে তার নতুন মেয়াদের সূচনা উদযাপিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পবিত্র কোরআন হাতে জোহরান মামদানির শপথ, নিউইয়র্কে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী মুহূর্তের সূচনা হলো নতুন বছরের প্রথম প্রহরে। নগরীর ১১১তম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং আফ্রিকা-বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে জোহরান মামদানি পবিত্র কোরআনের তিনটি কপি নির্বাচন করেন। মধ্যরাতের এই সীমিত পরিসরের আয়োজনে তার হাতে ছিল দুটি কপি—একটি তার দাদার ব্যবহৃত এবং অন্যটি আঠারো শতকের শেষভাগে মুদ্রিত একটি ঐতিহাসিক ক্ষুদ্রাকৃতির পকেট কোরআন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার থেকে সংগৃহীত এই কোরআনটি বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ কপি নির্বাচনে তার স্ত্রী রমা দুওয়াজিকে একজন গবেষক সহায়তা করেন।

উল্লেখযোগ্য যে, নিউইয়র্কের অধিকাংশ পূর্ববর্তী মেয়র বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নিলেও জোহরান মামদানি তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন—যা নগরটির বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে।

শপথ গ্রহণের স্থান নির্বাচনেও ছিল গভীর প্রতীকী তাৎপর্য। ১৯০৪ সালে নির্মিত এবং ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা সাবওয়ে স্টেশনটিকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অবদান ও শহরের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস শপথ বাক্য পাঠ করান; এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা জোহরান মামদানি শুরু থেকেই নিজের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নিয়মিত মসজিদে যাতায়াতসহ সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বিশেষত দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেন।

মধ্যরাতের এই আনুষ্ঠানিকতার পর আজ দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহত্তর গণ-শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে পুনরায় শপথ পাঠ করাবেন। পরবর্তীতে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় আয়োজিত উৎসবের মধ্য দিয়ে তার নতুন মেয়াদের সূচনা উদযাপিত হবে।