ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ

ঢাকায় শেষকৃত্যে সমবেদনায় সিক্ত খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজয়ের মাসের শেষলগ্নে ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশ শোকস্তব্ধ। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই আপসহীন নেতা। তাঁর মৃত্যুতে জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ শোক প্রকাশ করেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কান্না ও শোকের ঢেউ দেখা গেছে। তিন দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনে গ্রেফতার, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে গড়েছিলেন একটি দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনার হেফাজতে থাকার পরেও তিনি আপসহীন মনোভাব বজায় রেখেছিলেন। স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে ১৯৮৬, ১৯৮৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি দেশের সচেতন মহলে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অবিরাম চার দশকেরও বেশি সময় দল ও দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ সবই তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার আপসহীন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই তিনবারের নির্বাচনে জয় এবং দীর্ঘকালীন জনপ্রিয়তার মূল কারণ।

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত থাকবেন। জানাজা শেষে তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনরা তাকে গণতন্ত্র ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছেন। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-সাংবাদিকরা তাঁর অসাম্প্রদায়িক, দৃঢ় ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সকলেই মনে করছেন, খালেদা জিয়ার বিদায় দেশের রাজনীতিতে এক যুগের সমাপ্তি এবং নতুন প্রজন্মের জন্য গণতন্ত্রের অম্লান প্রতীক হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকায় শেষকৃত্যে সমবেদনায় সিক্ত খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৭:২০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয়ের মাসের শেষলগ্নে ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশ শোকস্তব্ধ। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই আপসহীন নেতা। তাঁর মৃত্যুতে জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ শোক প্রকাশ করেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কান্না ও শোকের ঢেউ দেখা গেছে। তিন দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনে গ্রেফতার, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে গড়েছিলেন একটি দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনার হেফাজতে থাকার পরেও তিনি আপসহীন মনোভাব বজায় রেখেছিলেন। স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে ১৯৮৬, ১৯৮৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি দেশের সচেতন মহলে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অবিরাম চার দশকেরও বেশি সময় দল ও দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ সবই তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার আপসহীন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই তিনবারের নির্বাচনে জয় এবং দীর্ঘকালীন জনপ্রিয়তার মূল কারণ।

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত থাকবেন। জানাজা শেষে তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনরা তাকে গণতন্ত্র ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছেন। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-সাংবাদিকরা তাঁর অসাম্প্রদায়িক, দৃঢ় ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সকলেই মনে করছেন, খালেদা জিয়ার বিদায় দেশের রাজনীতিতে এক যুগের সমাপ্তি এবং নতুন প্রজন্মের জন্য গণতন্ত্রের অম্লান প্রতীক হয়ে থাকবে।