ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংঘাতের আগে হরমুজ ত্যাগ করা জ্বালানিবাহী ১৫ জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করেছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মুখ খুললেন পুতিন তেহরানের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ইরান যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ইরান জয়ের ভাবনায় ট্রাম্পের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল কর্মসূচি ঘোষণা, রাজপথে নামছে জামায়াত চলমান জীবনের গল্প: কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত হবেন না, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে চরম মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল

ঢাকার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, সন্তানের পর মায়ের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩ ২২৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

ঢাকার সেন্ট্রাল হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক সন্তান মারা গিয়েছিল আগেই। রবিবার মারা গেলে মাহাবুবা রহমান আঁখিও। স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৯ জুন রাতের ঘটনা। মাহাবুবা রহমান আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন বারবার সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আমার স্ত্রী কেমন আছে? আর ডা. সংযুক্তা সাহা কোথায়? কিন্তু ইয়াকুবের কোনো কথার উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছিল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। তারা বারবার ইয়াকুবকে বলছিল, আপনি গেটের বাইরে অপেক্ষা করুন।

এক পর্যায়ে একজন নার্স এসে ইয়াকুবকে জানান, আঁখির অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে জন্য তাকে কাগজে সই দিতে হবে।

সই না দিলে আঁখি ও তার নবজাতকের চিকিৎসা করবে না হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কাগজে সই দিয়েও স্ত্রী ও সন্তানের কোনো তথ্যই পাচ্ছিলেন না ইয়াকুব। এ বিষয়ে শুরু থেকেই ইয়াকুবের সঙ্গে লুকোচুরি করছিলেন চিকিৎসকরা।

এক পর্যায়ে ইয়াকুবকে জানানো হয়, তার স্ত্রীর চিকিৎসা করা আর সেন্ট্রাল হসপিটালে সম্ভব নয়। তাকে অন্য হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। পরে স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে শনিবার ধানমণ্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে আঁখিকে ভর্তি করান ইয়াকুব।

এরপর সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে জানতে পারেন তার নবজাতক হসপিটালের এনআইসিইউতে মারা গেছে। এ ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় মামলার পর গ্রেপ্তার হন দুই চিকিৎসক। তারা কারাগারে।

ঢাকার গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে মৃত মাহবুবা রহমান আঁখি (২৫) ও সন্তানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার নাগাদ ধানমন্ডি থানা পুলিশ মরদেহ দুটি মর্গে পাঠায়।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমৃতা চাকমা এ তথ্য জানান। তিনিই আঁখির সুরতহাল প্রতিবেদন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের চিকিৎসার ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আঁখির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে আঁখির ছেলের মরদেহের সুরতহাল করেন এসআই শাহিদী হাসান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের অব্যবস্থাপনার কারণে নবজাতকটি মারা গেছে।

এদিন স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ মর্গে নিয়ে এসেছিলেন ইয়াকুব আলী সুমন। তিনি সেন্ট্রাল হসপিটালের বিরুদ্ধে আঁখিকে হত্যার অভিযোগ করেন। সুমন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি চাই। এছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। আর ডা. সংযুক্ত সাহাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম যেভাবেই হোক আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে। ওকে পেলে আমি সবকিছু মেনে নিতে পারতাম।

আঁখির চাচা আহমেদ উল্লাহ মজুমদার কাজল বলেন, ওর ৯ মাস বয়সে আমার ভাই তেজগাঁও থানার এসআই মাহবুবুর রহমান মজুমদার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আজ মেয়েটাও মারা গেল। ভুল অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৪০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তবুও বাঁচানো যায়নি। আমরা মা ও সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ জুন) ডা. সংযুক্ত সাহার ফাঁসি চান বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, সন্তানের পর মায়ের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

ঢাকার সেন্ট্রাল হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক সন্তান মারা গিয়েছিল আগেই। রবিবার মারা গেলে মাহাবুবা রহমান আঁখিও। স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৯ জুন রাতের ঘটনা। মাহাবুবা রহমান আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন বারবার সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আমার স্ত্রী কেমন আছে? আর ডা. সংযুক্তা সাহা কোথায়? কিন্তু ইয়াকুবের কোনো কথার উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছিল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। তারা বারবার ইয়াকুবকে বলছিল, আপনি গেটের বাইরে অপেক্ষা করুন।

এক পর্যায়ে একজন নার্স এসে ইয়াকুবকে জানান, আঁখির অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে জন্য তাকে কাগজে সই দিতে হবে।

সই না দিলে আঁখি ও তার নবজাতকের চিকিৎসা করবে না হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কাগজে সই দিয়েও স্ত্রী ও সন্তানের কোনো তথ্যই পাচ্ছিলেন না ইয়াকুব। এ বিষয়ে শুরু থেকেই ইয়াকুবের সঙ্গে লুকোচুরি করছিলেন চিকিৎসকরা।

এক পর্যায়ে ইয়াকুবকে জানানো হয়, তার স্ত্রীর চিকিৎসা করা আর সেন্ট্রাল হসপিটালে সম্ভব নয়। তাকে অন্য হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। পরে স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে শনিবার ধানমণ্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে আঁখিকে ভর্তি করান ইয়াকুব।

এরপর সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে জানতে পারেন তার নবজাতক হসপিটালের এনআইসিইউতে মারা গেছে। এ ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় মামলার পর গ্রেপ্তার হন দুই চিকিৎসক। তারা কারাগারে।

ঢাকার গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে মৃত মাহবুবা রহমান আঁখি (২৫) ও সন্তানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার নাগাদ ধানমন্ডি থানা পুলিশ মরদেহ দুটি মর্গে পাঠায়।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমৃতা চাকমা এ তথ্য জানান। তিনিই আঁখির সুরতহাল প্রতিবেদন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের চিকিৎসার ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আঁখির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে আঁখির ছেলের মরদেহের সুরতহাল করেন এসআই শাহিদী হাসান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের অব্যবস্থাপনার কারণে নবজাতকটি মারা গেছে।

এদিন স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ মর্গে নিয়ে এসেছিলেন ইয়াকুব আলী সুমন। তিনি সেন্ট্রাল হসপিটালের বিরুদ্ধে আঁখিকে হত্যার অভিযোগ করেন। সুমন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি চাই। এছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। আর ডা. সংযুক্ত সাহাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম যেভাবেই হোক আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে। ওকে পেলে আমি সবকিছু মেনে নিতে পারতাম।

আঁখির চাচা আহমেদ উল্লাহ মজুমদার কাজল বলেন, ওর ৯ মাস বয়সে আমার ভাই তেজগাঁও থানার এসআই মাহবুবুর রহমান মজুমদার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আজ মেয়েটাও মারা গেল। ভুল অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৪০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তবুও বাঁচানো যায়নি। আমরা মা ও সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ জুন) ডা. সংযুক্ত সাহার ফাঁসি চান বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।