জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ঢাকায় মৈত্রী দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ৬ ডিসেম্বর অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করল মৈত্রী দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী। ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয় ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনটি—যেদিন ভারত প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের দশ দিন আগেই দেওয়া এই স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভারতের অটল সমর্থনের প্রতীক হয়ে আছে।

উদযাপনের শুরুতেই ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দিনটিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিহাসে এক অনিবার্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারত সমতা, সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দুই দেশের জনগণই মূল চালিকাশক্তি। তাঁর বিশ্বাস, অতীতের ত্যাগ এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা উভয় দেশের সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় ও গতিশীল করে তুলবে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল সেদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। “৭১ ইন সাইলেন্স” শিরোনামে সুন্দরম প্রোডাকশনের প্রতিবন্ধী-অন্তর্ভুক্ত থিয়েটার পরিবেশনা দর্শকদের অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। রমেশ মায়াপ্পনের অনবদ্য পরিচালনায় শারীরিক গল্প বলার কৌশলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় বাংলাদেশের জন্ম, যুদ্ধের উত্তাল সময় এবং তার মানবিক পরিণতির নাটকীয় উপস্থাপন।
পরবর্তী পরিবেশনায় সৃষ্টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নৃত্যশিল্পীরা, নৃত্য পরিচালক আনিসুল ইসলাম হিরোর নির্দেশনায়, তুলে ধরেন বাংলাদেশের বর্ণিল ঐতিহ্য ও দুই দেশের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড “শিরোনামহীন”-এর প্রাণবন্ত ও আবেগময় পরিবেশনার মাধ্যমে, যা দর্শকদের যেন সুরের এক বিস্ময়ময় ভুবনে নিয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তরুণ প্রজন্মসহ নানা ক্ষেত্রের মানুষ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানটিতে। মৈত্রী দিবস কেবল ইতিহাসের স্মৃতিচারণ নয়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের শতবর্ষের বন্ধুত্ব, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক। এর উদযাপন ভবিষ্যতের আরও উজ্জ্বল, সমৃদ্ধ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রতি এক নবায়িত অঙ্গীকার।




















