ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিরীণ বেবীর কবিতা ‘নারী তুমি মানুষ হতে শেখো’ পর্যালোচনা ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি তিস্তা  প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন মজুদ পর্যাপ্ত, তবু বাজারে তেলের সংকট  মুনাফাখোরদের কারসাজি বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘চলুন, যুদ্ধে যাই’ দেশে নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রপতি ইউনূস জমানায় চুক্তিতে নিয়োগ ৪ কূটনীতিককে ঢাকায় ফেরানো হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে: টিআইবি ১০ মাসের সর্বোচ্চে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এক বছরে ধর্ষণ মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশ

খ্রিস্টানদের হত্যার অভিযোগে নাইজেরিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খ্রিস্টানদের হত্যার অভিযোগে নাইজেরিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর প্রধাম্যভিত্তিক নির্যাতন ঘটছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিরক্ষা দফতরকে (পেন্টাগন) সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Truth Social) দেওয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, যদি নাইজেরিয়ার সরকার খ্রিস্টানদের নিহত হওয়ার পরিস্থিতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের সব ধরনের সহায়তা স্থগিত করবে এবং প্রয়োজন হলে “গান-আব্লেজিং” কায়দায় সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করার জন্য সরাসরি অভিযানও চালাতে পারে।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিভাগকে “সম্ভাব্য পদক্ষেপ” নিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত, কঠোর ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে—ঠিক যেমন তিনি দাবি করেছেন ওই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের প্রিয় খ্রিস্টানদের ওপর নৃশংস আচরণ করছে। তাঁর এই ঘোষণার সঙ্গে ছিল নাইজেরিয়াকে “প্রতিষ্ঠিত সহায়তা বন্ধ” করে দেওয়ার হুমকি।

নাইজেরিয়া সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।  বোলা আহমেদ টিনুবু স্পষ্ট করে বলেছেন যে নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানগতভাবে সুরক্ষিত এবং সরকার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও আলাদা-আলাদা সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে, এমন প্রতিক্রিয়া প্রদান করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন—নাইজেরিয়া বহু ধরনের সন্ত্রাসী ও বাজারভিত্তিক সহিংসতার শিকার; এসব আক্রমণের শিকারদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। তিনি যে তকমা ব্যবহার করেছেন—নাইজেরিয়াকে “কান্ট্রি অব পারটিকুলার কনসার্ন” (Country of Particular Concern) হিসেবে ঘোষণা—সাধারণত এটি দেওয়া হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৯৮-এর আওতায়, এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত কংগ্রেস-সমর্থিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এই কারণে ট্রাম্পের ত্বরিত এবং সরাসরি সামরিক হুশিয়ারি কিছু পর্যবেক্ষকের কাছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও তুলে দিয়েছে।

উপসংহার — ট্রাম্পের ঘোষণায় পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে তীব্র এক কূটনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। নাইজেরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ, রাজনৈতিক জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ ধরণের হুমকি কূটনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তসাপেক্ষ কাজ; আর বাস্তবে কোন ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত, আইনি ও সামরিক মূল্যায়নের উপর।

(রয়টার্স, এপি, সিবিএস ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের সংকলনে প্রস্তুত।)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খ্রিস্টানদের হত্যার অভিযোগে নাইজেরিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ১১:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

খ্রিস্টানদের হত্যার অভিযোগে নাইজেরিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর প্রধাম্যভিত্তিক নির্যাতন ঘটছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিরক্ষা দফতরকে (পেন্টাগন) সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Truth Social) দেওয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, যদি নাইজেরিয়ার সরকার খ্রিস্টানদের নিহত হওয়ার পরিস্থিতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের সব ধরনের সহায়তা স্থগিত করবে এবং প্রয়োজন হলে “গান-আব্লেজিং” কায়দায় সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করার জন্য সরাসরি অভিযানও চালাতে পারে।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিভাগকে “সম্ভাব্য পদক্ষেপ” নিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত, কঠোর ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে—ঠিক যেমন তিনি দাবি করেছেন ওই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের প্রিয় খ্রিস্টানদের ওপর নৃশংস আচরণ করছে। তাঁর এই ঘোষণার সঙ্গে ছিল নাইজেরিয়াকে “প্রতিষ্ঠিত সহায়তা বন্ধ” করে দেওয়ার হুমকি।

নাইজেরিয়া সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।  বোলা আহমেদ টিনুবু স্পষ্ট করে বলেছেন যে নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানগতভাবে সুরক্ষিত এবং সরকার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও আলাদা-আলাদা সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে, এমন প্রতিক্রিয়া প্রদান করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন—নাইজেরিয়া বহু ধরনের সন্ত্রাসী ও বাজারভিত্তিক সহিংসতার শিকার; এসব আক্রমণের শিকারদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। তিনি যে তকমা ব্যবহার করেছেন—নাইজেরিয়াকে “কান্ট্রি অব পারটিকুলার কনসার্ন” (Country of Particular Concern) হিসেবে ঘোষণা—সাধারণত এটি দেওয়া হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৯৮-এর আওতায়, এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত কংগ্রেস-সমর্থিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এই কারণে ট্রাম্পের ত্বরিত এবং সরাসরি সামরিক হুশিয়ারি কিছু পর্যবেক্ষকের কাছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও তুলে দিয়েছে।

উপসংহার — ট্রাম্পের ঘোষণায় পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে তীব্র এক কূটনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। নাইজেরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ, রাজনৈতিক জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ ধরণের হুমকি কূটনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তসাপেক্ষ কাজ; আর বাস্তবে কোন ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত, আইনি ও সামরিক মূল্যায়নের উপর।

(রয়টার্স, এপি, সিবিএস ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের সংকলনে প্রস্তুত।)