আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি
- আপডেট সময় : ১২:১৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
ভারত–আমিরাত কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের আবহে ভারতে সফররত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবনে আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক রীতি অনুসারে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি অতিথিকে গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী নকশাকাটা কাঠের দোলনার দিকে নিয়ে যান। গাঁদা ফুলে সজ্জিত ওই দোলনার সাংস্কৃতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন তিনি। পরে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাঁধে একটি বিলাসবহুল শাল পরিয়ে দেন এবং দুই নেতা আন্তরিক আলিঙ্গনের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। দোলনায় বসেই কিছু সময় ঘনিষ্ঠ আলোচনাতেও অংশ নেন তারা।
ভারতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, উপহার হিসেবে দেওয়া রাজকীয় কাঠের দোলনাটি গুজরাটে হাতে তৈরি, যা ফুল ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় সজ্জিত। গুজরাটি সংস্কৃতিতে এ ধরনের দোলনা পারিবারিক ঐক্য, আন্তরিকতা ও প্রজন্মের বন্ধনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি কাশ্মীরের উৎকৃষ্ট পশম দিয়ে হাতে বোনা একটি পশমিনা শাল উপহার দেন, যা নকশাদার রুপার বাক্সে সংরক্ষিত ছিল। শালটির সঙ্গে তেলেঙ্গানায় তৈরি রুপার বাক্স ভারতের সমৃদ্ধ হস্তশিল্প ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকার বিখ্যাত জাফরানও উপহার দেওয়া হয়, যা তার গভীর লাল রং ও তীব্র সুবাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
সফরকালে আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ‘মাদার অব দ্য নেশন’ সম্মাননাও প্রদান করা হয়, যা দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সফরে শেখ মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ছিলেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ আমিরাত সরকারের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উষ্ণ অভ্যর্থনা ভারত–আমিরাতের কৌশলগত অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উভয় দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ। সূত্র: গালফ নিউজ



















