শাহবাগ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
‘হাদি, হাদি’ স্লোগানে উত্তাল প্রতিবাদী চত্বর
ঢাকার শাহবাগ চত্বর বারবার ইতিহাসের বাঁকে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিয়েছে। শনিবার বিকেলে আবারও হয়ে উঠল শোক, ক্ষোভ আর প্রতিজ্ঞার উত্তাল মঞ্চ। জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করার পরপরই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ঢলে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ। ‘হাদি, হাদি’ স্লোগানে কেঁপে ওঠা এই চত্বর থেকেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা করেন বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ শাহবাগে অবস্থান নেন। কারও হাতে ব্যানার, কারও চোখে অশ্রু-সবাই এক কণ্ঠে দাবি তোলেন হাদির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের। স্লোগান ও ফেস্টুনে উঠে আসে হাদির সংগ্রামী জীবন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে রাজধানীর বুকে একজন নেতাকে হত্যার পরও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এর দায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকেই নিতে হবে। তারা ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পদত্যাগ না করলে শিক্ষার্থী-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফনকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং হাদির পরিবার-পরিজন।
বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ সমাধিসৌধে পৌঁছালে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাফন শেষে হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় হাদির নামাজে জানাজা। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন হাদির আদর্শ ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
দাফনের পর শাহবাগে জমায়েত হওয়া জনতার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একটিই বার্তা-হাদি নেই, কিন্তু তার প্রশ্ন, তার দাবি আর তার লড়াই থেমে নেই। শোক থেকে প্রতিবাদে, প্রতিবাদ থেকে অঙ্গীকারে-শাহবাগ আবারও সাক্ষী হলো ইতিহাসের আরেকটি উত্তাল সন্ধ্যার।




















