যুদ্ধ থামাতে ইরানের ৫ শর্ত: আলোচনায় নতুন মোড়
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো। গত সোমবার প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই উত্তেজনা প্রশমনে পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই ইরান তাদের শর্তগুলো সামনে এনেছে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই দাবিগুলো তুলেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এখনো অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পাঁচটি মূল শর্ত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে, সেগুলো হলো—
১. স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা
ইরান চায় এমন একটি স্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা, যাতে ভবিষ্যতে আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু না হয়।
২. হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা
হরমুজ প্রণালী-এ নতুন একটি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে তেহরান, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তাদের কার্যকর প্রভাব বজায় থাকে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ
ইরান দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে হবে, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে তেহরান।
৪. যুদ্ধক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ
চলমান সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে—এ দাবিও তাদের শর্তের মধ্যে রয়েছে।
৫. ‘বিদ্বেষমূলক’ প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ইরানের কাছে হস্তান্তর বা নিজ নিজ দেশে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত
এর আগে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান এই আলোচনায় “গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।” তার এই মন্তব্যকে অনেকে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দেওয়া শর্তগুলো বেশ কঠোর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি, এই দুইটি বিষয়ই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এসব শর্ত মেনে নিয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকায় সংকট নিরসনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই শর্তগুলোর প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও মিডল ইস্ট আই



















