মরুভূমির বালু থেকে পরিবেশবান্ধব কাগজ!
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে
স্যান্ড পেপার টেকনোলজি সেই ধ্বংসযজ্ঞ রোধে এক যুগান্তকারী বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে
কাগজের লেখা মুছে ফেলে পুনরায় ব্যবহার করা যায় অন্তত ২০ বার
সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান মিলে চাইলে মরুভূমিতেও সবুজ সম্ভাবনার বীজ বোনা যায়
বালু দিয়ে কাগজ তৈরি, শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, চীনের বিজ্ঞানীরা সেটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের গবি মরুভূমিতে গবেষকরা সম্প্রতি এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা মরুভূমির বালু ব্যবহার করে তৈরি করছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কাগজ। এই অভিনব আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের নজর কেড়েছে।
প্রচলিত কাগজ উৎপাদনে কাঠের পাল্প ব্যবহার করা হয়, যার ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস হয়। নতুন এই স্যান্ড পেপার টেকনোলজি সেই ধ্বংসযজ্ঞ রোধে এক যুগান্তকারী বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
গবেষক দলটি জানায়, মরুভূমির সূক্ষ্ম সিলিকা কণাকে বিশেষ পলিমার ও প্রাকৃতিক বাইন্ডার দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে টেকসই, মসৃণ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাগজে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই কাগজে কোনো রকম কাঠের পাল্প, পানি বা ব্লিচিং কেমিক্যালের প্রয়োজন পড়ে না, ফলে এটি একদমই দূষণমুক্ত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কাগজে লেখা মুছে ফেলে পুনরায় ব্যবহার করা যায় অন্তত ২০ বার।
এর ফলে শিল্প উৎপাদনে ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি বন সংরক্ষণেও আসবে বড় ইতিবাচক প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ভাবন শুধু চীনের নয়, বরং পুরো বিশ্বের কাগজ শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
মরুভূমির অপ্রয়োজনীয় বালু কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার এই ধারণা ভবিষ্যতের টেকসই শিল্পায়নের দিকনির্দেশনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
চীনের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান মিলে চাইলে মরুভূমিতেও সবুজ সম্ভাবনার বীজ বোনা যায়।




















