ভোলার চরাঞ্চলে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ: কৃষকের স্বপ্নে অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০২:৩২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
“বাংলার মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানের কথাগুলো যেন নতুন করে বাস্তব হয়ে উঠেছে দ্বীপ জেলা ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে। উর্বর এই মাটিতে কৃষকের ঘাম আর পরিশ্রমে জন্ম নিচ্ছে নানা ধরনের ফসল, যার মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত তরমুজ চাষ।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও ভোলার চরাঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন চর এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে তরমুজ কাটা শুরু হয়েছে এবং ঈদের পর পুরোদমে তরমুজ সংগ্রহে নামবেন কৃষকরা।
কৃষি উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি। তিনি বলেন, কৃষি হচ্ছে আমাদের মাথা আর দেহ হচ্ছে, এই দেশের মাটি-জমিন, নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওড়-বাওর। কৃষকের ঘামে উৎপাদিত ফসলেই দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়, আবার অনেক কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একসময় মাত্র পাঁচ হাজার টাকার কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে অনেক কৃষককে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অথচ বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েও পার পেয়ে যায়। তবুও কৃষকরা সব বাধা উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন। সুদসহ যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে জানান শাহাবুদ্দিন ফরাজি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে আমরা কৃষকরা যেন নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সাহস বেড়ে গেছে।

ভোলার চরাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর এখানে তরমুজের আবাদ বাড়ছে। শাহাবুদ্দিন ফরাজির ভাষ্যমতে, যারা ভরশীতে তরমুজের বীজ বপন করেছেন তাদের ফলন তুলনামূলক কম হলেও হালকা শীতে যারা চাষ করেছেন তারা বেশ ভালো ফলন পাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, তরমুজ চাষ এখন শুধু একটি ফসল নয়, বরং তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠছে। ভালো দাম পেলে এই তরমুজ চাষই অনেক কৃষকের জীবনে স্বচ্ছলতা এনে দিতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ভোলার চরাঞ্চলের তরমুজ ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


















