ভোট গণনায় দেরির অজুহাতে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিরোধের আহ্বান তারেক রহমানের
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
নারীদের অবমাননাকর বক্তব্যে এক দলের তীব্র সমালোচনা
ভোট গণনায় দেরির কথা বলে কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে চাইলে তা প্রতিরোধ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি সতর্ক আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে-এমন বক্তব্যকে “নতুন গল্প” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসব কথার মাধ্যমে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।
সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান । যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে উপশহর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ গত এক যুগ ভোট দিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই, এমনটা নয়। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, সে ধারণা এ দেশের মানুষের আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কেউ ভোট গণনায় দেরির উছিলা দিয়ে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চায়, আপনাদের তা প্রতিরোধ করতে হবে।
খুলনার জনসভায় বক্তব্য শেষে হেলিকপ্টারে করে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে পৌঁছান তারেক রহমান। বেলা আড়াইটায় মঞ্চে উঠে প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। সংক্ষিপ্ত এই সফরের শেষভাগে যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, একটি দল মা-বোনদের কাছে গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে এবং সৎ শাসনের কথা বলছে। তার ভাষায়, আপনাদের এই প্রস্তাবটাই সবচেয়ে অসৎ প্রস্তাব। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে কীভাবে সৎ শাসনের কথা বলেন?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যারা জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারে, নির্বাচনের পর তারা কতটা মিথ্যা বলবে, তা সহজেই অনুমেয়। তারেক রহমানের অভিযোগ, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং ভোটের অধিকার আবার কেড়ে নিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আমরা ভেবেছিলাম রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে দেখলাম, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করেছে। তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, কর্মজীবী নারীদের অপমান করার কোনো অধিকার কারও নেই।
দেশ পুনর্গঠনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে, আখ চাষ ও বন্ধ চিনি কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে উলাসী খাল খননের কাজ আবার শুরু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি জিকে প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের আশ্বাস দেন।
নারী ও কৃষকদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিপুল শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


















