নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নসিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়: ভারতকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ১০:১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে, এ বিষয়ে প্রতিবেশী কোনো দেশের উপদেশ বা নসিয়ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে বাইরের কোনো পরামর্শের প্রয়োজন নেই।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে কিছু বক্তব্য এসেছে, যেখানে বাংলাদেশকে নসিয়ত করার চেষ্টা দেখা গেছে। যে নসিয়ত দেওয়া হয়েছে, সেটার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, তা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না, বলেন তিনি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও উচ্চমানের নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করে আসছে, যে পরিবেশ গত ১৫ বছরে দেশে ছিল না। তার ভাষায়, অতীতে দেশে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে, অথচ সে সময় ভারতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তখন ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।
এখন যখন আমরা একটি ভালো ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি, তখন নসিয়ত দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ জানে কী করতে হবে। দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে, এটাই সরকারের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি।
দুদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ভারতের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
এর তিন দিনের মাথায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় এবং সেখানেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। আমাদের বক্তব্য থেকে তারা কিছু গ্রহণ করেনি। একইভাবে তারা আমাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছে। এটি খুব অপ্রত্যাশিত কিছু নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনে এমনটা প্রায়ই ঘটে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন, যেখানে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তার মতে, একজন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাশের দেশে বসে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বন্ধ করা বা তাকে ফেরত চাওয়াকে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তৌহিদ হোসেন।




















