দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির হজের অনুমতি মিলবে না
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে
ডায়ালাইসিস চলছে এমন কিডনি রোগ, গুরুতর হৃদরোগ, সবসময় অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এরূপ ফুসফুসের রোগ ও ভয়াবহ লিভার সিরোসিস। এছাড়াও গুরুতর স্নায়ুবিক কিংবা মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রষ্টতাসহ অতি বয়স্ক ব্যক্তি, শেষ প্রান্তিকের গর্ভাবস্থা ও যেকোনো স্তরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায়ও হজের অনুমতি মিলবে না।
সংক্রামক রোগ যেমন: যক্ষ্মা, ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর এবং কেমোথেরাপি কিংবা অন্য কোনো নিবিড় ইমিউনোথেরাপী চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এমন ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিকেও হজের অনুমতি দেবে না সৌদি সরকার।
আগামী হজ মৌসুমকে সামনে রেখে নয়া নির্দশনা জারি করলো সৌদি সরকার। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের হজের অনুমতি দেবে না দেশটি।
প্রত্যেক হজযাত্রীর সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হজযাত্রী প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তরফে।
এ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হজযাত্রীরা হজ পালনের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত এরূপ প্রত্যয়ন দিতে হবে। আজ সোমবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হজযাত্রী পাঠায় এমন দেশগুলোকে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হতে পত্র পাঠানো হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি হজ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ পত্রে, একজন হজযাত্রী যে সকল শারীরিক পরিস্থিতিতে হজের অনুমতি পাবেন না তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো হজযাত্রীর শরীরের প্রধান অঙ্গসমূহ অকার্যকর হলে তিনি হজের অনুমতি পাবেন না।
হজযাত্রী প্রেরণের ক্ষেত্রে হজযাত্রী প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত প্রত্যয়ন করে নুসুক মাসার প্লাটফর্মে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য আবশ্যিকভাবে বৈধ স্বাস্থ্য সনদ ইস্যু করতে অনুরোধ করেছে সৌদি আরব। আগমন ও বহির্গমন প্রান্তে মনিটরিংয়ে পরিপূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, নুসুক মাসার প্লাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যুকৃত স্বাস্থ্য সনদের সত্যতা ও যথার্থতা যাচাই করবে মনিটরিং দল।
কোনো দেশের হজযাত্রীর মধ্যে যদি তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্য অবস্থা পাওয়া যায় তাহলে সে দেশের বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মসৃণ ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদেশ থেকে হজযাত্রী প্রেরণের ক্ষেত্রে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে হজের নিবন্ধন না করার জন্য নিবন্ধন শুরু আগেই ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। হজ এজেন্সিগুলোকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশি দু’জন চিকিৎসক এ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নিতে সৌদি সরকারের অনুরোধে সেদেশে অনুষ্ঠিত একটি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।



















